কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ নভেম্বর: এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল যদি কোনও রকম কারচুপি, ভয় দেখানো বা গন্ডগোল না করে তবে রাজ্য থেকে দলটা উঠে যাবে। রবিবার ঘাটালে দলীয় কর্মসূচিতে এসে এমনই দাবি করলেন সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে রেড করলে বিপুল বোমা অস্ত্র মিলবে
ঘাটালের বরদা চৌকানে সিপিআইএমের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় রাজ্যসভার সাংসদ তথা সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, বামফ্রন্টের আমলে এসএসসি অর্থাৎ স্কুল সার্ভিস কমিশনে যেসব শিক্ষকরা চাকরি পেয়েছিলেন, সেব্যাপারে কোনওদিন বামফ্রন্টের নেতাদের দিকে দুর্নীতির আঙুল ওঠেনি। আজ পশ্চিমবঙ্গে কলঙ্কের ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি অনুদানের নাম করে সাধারণ মানুষের, আপনার-আমার পিঠে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজীব কুমার কে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় বসে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না, ভাবা যায়?
বিকাশবাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, চটি শুদ্ধ পা টেবিলে তুলে বিদ্যাসাগর যেভাবে ইংরেজ সাহেবকে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন, সেই ভাবেই তাড়িয়ে দিতে হবে বর্তমান দুর্নীতিবাজদের।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিক্রি হয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মাথায় এত বড় কলঙ্ক কেউ কোনও দিন দেখেনি।
এই সমাবেশে সিপিআইএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ বলেন, তৃণমূলের জেলবন্দী নেতারা এই রাজ্যের জেলে বেশ রসেবসে আছেন, মাছ মুরগি এসব খাচ্ছেন। যখনই তিহার জেলে যাওয়ার পথ প্রশস্থ হয়, তখনই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যান, কিছুদিনের জন্য তা থমকে দেওয়ার জন্য।
পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধীদের সরকার চলছে এবং সরকারি মদতে দুর্নীতি হচ্ছে বলে সুশান্তবাবু বলেন।
এদিনের সমাবেশে সিপিআইএমের জেলা কমিটির সদস্য অশোক সাঁতরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ছিলেন।

