স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১০ জুন: আগামী ৮ জুলাই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ ফলে হাতে আর বেশি সময় নেই। ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধীরা। যদিও এখনও প্রার্থী পদ ঘোষিত না হওয়ায় মনোনয়ন পত্র জমা করতে পারছেন না শাসক দল তৃণমূলের নেতা কর্মীরা৷ দল কাকে প্রার্থী করবে বা কে টিকিট পাবে তা নিয়ে দু:শ্চিন্তার ভাঁজ নীচু তলার তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। আর এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে দলের বিরুদ্ধে ফের বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী।
করিম সাহেব এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি ইসলামপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। এই ব্লকে পঞ্চায়েত ভোটে কারা প্রার্থী হবেন তা তিনিই নির্ধারণ করবেন। এখানে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। করিম বাবু আরও বলেন, ‘যে আমি আমার পছন্দের প্রার্থী তালিকা তৈরি করে আজই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দেবো, তিনি যদি আমার বাছাই করা প্রার্থীদের মনোনীত করেন তো ভালো, না করলে ওরা আমার সমর্থনে আমার প্রতিনিধি হিসেবে নির্দল থেকে পঞ্চায়েত ভোটে লড়বে।’ করিম বাবু তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ইসলামপুর ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতে প্রার্থী দেবেন এবং তাদের জিতিয়ে পঞ্চায়েতগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে চান।
এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দলের ব্লক সভাপতি জাকির হোসেনকে ‘আদমখোর’ বলে আক্রমণ করেন আব্দুল করিম চৌধুরী৷ তিনি বলেন, অতীতে ইসলামপুরে অনেক অত্যাচার করেছেন জাকির হোসেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই বিধায়কের এই হুঁশিয়ারিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এক্ষেত্রে দলের বিরুদ্ধে গোঁজ দাঁড় করানোরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন করিম সাহেব। যদিও তার এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ দলের ব্লক সভাপত্তি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, প্রার্থী কে হবে তা দল ঠিক করবে। তবে যে কেউ দলের নিজের পছন্দ মতো প্রার্থী তালিকা জমা দিতেই পারেন।
অপরদিকে এ বিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানান, “তালিকা দেওয়ার অধিকার ওনার আছে, উনি তালিকা দিতেই পারেন। দল ঠিক করবে কাকে প্রার্থী করবে, কাকে করবে না”

