আমাদের ভারত, ২৬ নভেম্বর:
সামনের বছরেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে এসেছে বঙ্গ বিজেপি। বুধবার থেকে রাজ্যে একের পর এক কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় কর্মিসভা করছেন মহাগুরু। দলীয় কর্মীদের অভাব অভিযোগও শুনছেন। রাজ্যে পা রাখার পর থেকেই রাজ্যের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন মহাগুরু। পাশাপাশি তার দাবি, রাজ্যে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে শিল্পের বন্যা হয়ে যাবে।
জেলা সফরের সময় থাকার জন্য সার্কিট হাউজ তাকে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করলেন। এমনকি তিনি যে হোটেলে থাকছেন সেই হোটেল মালিকরাও শাসকদলের ভয় সন্ত্রস্ত বলে অভিযোগ বিজেপির জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তীর। শনিবার সকালে বিষ্ণুপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে এই কথা বলেছেন তিনি।
রাজ্যে শিল্পের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকের সঙ্গেই তো বসি, কথা বলি, টাটার ঘটনার পর শিল্পপতিরা ভীত। তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিল্পের বন্যা বইবে।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দল তাঁকে যেভাবে ব্যবহার করবে তিনি ঠিক সেভাবেই কাজ করবেন।
রাজ্যে শিল্পায়নের প্রথম চেষ্টা সিঙ্গুরে শেষ হয়েছিল বলে মত একাধিক শিল্পপতির। ভাবে একটা তৈরি কারখানাকে ভেঙ্গে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল তা উদ্যোগপতিদের অনেকের কাছেই রীতিমতো আতঙ্কের। টাটা গোষ্ঠীর মতো সংস্থা যারা গোটা বিশ্বে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে তাদের সঙ্গে এই আচরণ মেনে নিতে পারেনি শিল্পপতিরা। তাই রাজ্যের বর্তমান সরকারের পরিবর্তে যদি বিজেপি সরকার আসে তাহলে সেখানে উন্নয়নের জোয়ার আসবে বলে দাবি করেছেন মহাগুরু।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের কাছে অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। গত কয়েক মাস ধরে জেলে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে পার্থকে সমস্ত পদ থেকে ছাটলেও কেন অনুব্রত এখনো তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে বহাল আছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের কটাক্ষকে আমলই দেয়নি শাসক দল। কেষ্টকে সভাপতি পদে রেখেই পঞ্চায়েত ভোটে লড়তে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের তো কোনও উপায় নেই, কারণ অনুব্রত মণ্ডলের হাতে যেসব তথ্য রয়েছে সেইসব তথ্য যদি তিনি সিবিআই, ইডিকে বলে দেন তাহলে রক্ষাকবচ উঠে গিয়ে জেল যাত্রায় শুধু সময়ের অপেক্ষা হয়ে যাবে। তাই অনুব্রতকে কেউ ঘাঁটাতে চাইছে না।

