রাজেন রায়, কলকাতা, ২৬ ডিসেম্বর: বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইচ্ছা করে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করছে না রাজ্য প্রশাসন, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতা কর্মীদের। এর আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ডায়মন্ড হারবারে হেনস্থা হওয়ার পর সেই ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে সতর্ক করা হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনকে। কিন্তু তারপরেও শনিবার হেস্টিংসে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বিজেপি নেতাদের। হেনস্থার মুখে পড়েন সাংসদ সুনীল মণ্ডল এবং শুভেন্দু অধিকারী। পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে সেই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট তলব করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শনিবার হেস্টিংসে নবাগতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘিরে কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় শনিবার বিজেপির কার্যালয়, হেস্টিংসের অফিসে। যদিও এই অনুষ্ঠানের কথা আগে থেকেই পুলিশকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি বিজেপি কর্মীদের। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সেখানে পৌঁছন সাংসদ সুনীল মণ্ডল। অভিযোগ, সাংসদ পৌঁছতেই তাঁর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ঝান্ডা দিয়ে গাড়ির বনেটে মারা হয় বলেও অভিযোগ। সুনীল মণ্ডলকে কোনওরকমে নিরাপদে বিজেপি কর্মীরা পার্টি অফিসের ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের। এমনকি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর শুভেন্দু অধিকারী বেরোনোর সময়ও তাকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।

ছবি: সুনীল মণ্ডলের গাড়ি ঘিরে হামলা।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ খানেক আগে মেদিনীপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সভায় যোগদানকারী নবাগতদের শনিবার হেস্টিংসে বিজেপি কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। বিজেপি নেতাদের দাবি, সব জানা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেনি রাজ্য প্রশাসন। পুলিশ দলদাসের মতো আচরণ করছে। তবে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে যে বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে রাজ্য প্রশাসনকে, ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রিপোর্ট তলবের ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। আজকের ঘটনার পর সুনীল মণ্ডল এর নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনী নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

