আমাদের ভারত, ১১ ডিসেম্বর: গীতা পাঠের আসরে প্যাটিশ কাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আসল ঘটনা হলো নিরামিষ বলে আমিষ বিক্রি করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, হিন্দুদের জীবনের দাম নেই, আর মুসলিমদের প্যাটিসেরও দাম আছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “যেভাবে এই ঘটনার পেছনের সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেমেছে তার থেকে আজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের অবস্থা কী। তাঁর দাবি, গন্ডগোলটা প্যাটিস বিক্রি করা নিয়ে নয়, বরং গন্ডগোলটা হচ্ছে নিরামিষ বলে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করা নিয়ে। এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। তিনি বলেন, আপনি- আমি চিকেন খাই কিন্তু কেউ তো নাও খেতে পারে। তাকে মিথ্যে কথা বলে ভেজ বলে চিকেন খাওয়াতে পারেন না। এটা অপরাধ। তাও গীতা পাঠের মত একটি পবিত্র জায়গায়।
চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, “আজ সিপিআইএম- এর যে বাচ্চা উকিল ছেলেটি মামলা দায়ের করেছে, সেতো সন্ধেবেলা হলে মাঝে মাঝে ঢুকু ঢুকু করে বলে খবর আছে। তাকে বলুন শুক্রবার দিন কোনো মসজিদের সামনে গিয়ে একটু ঢুকু ঢুকু করতে। তার সাথে কেমন ট্রিটমেন্ট হয় সে দেখতে পাবে। সেখানে গেলে পরে তার গলা কেটে ফেলবে।
তাঁর অভিযোগ, হিন্দুদের ওপর এই চরম অত্যাচার সিপিএম, তৃণমূল সবাই মিলে করছে। কেবল হিন্দু বলেই অ্যারেস্ট করা হয়েছে। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি চাইছি। তিনি জানান, ধৃতদের মধ্যে একটি হ্যান্ডিক্যাপড ছেলে রয়েছে। তার শরীর ভালো না। সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছেলেটির একটি পা নেই। তাঁর কথায়, আমাদের এখানে গ্রামেগঞ্জে, শহরে দোকানি এবং বিক্রেতার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের এইরকম গন্ডগোল হয়। একুশের ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা কত জনের দোকান ভেঙ্গেছে। হর গোবিন্দ দাস, চন্দন দাস খুন হলো বাড়িতে। কোনো বুদ্ধিজীবীকে তখন চিৎকার করতে দেখিনি। এরপরেই তিনি কটাক্ষ করে বলেন, হিন্দুর জীবনের দাম নেই নাকি? আর মুসলিমদের প্যাটিসেরও দাম আছে।
ব্রিগেডে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানের দিন দুই প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কলকাতার ব্যঙ্কশাল আদালত জামিনও দিয়েছে।জামিন পাওয়ার পরেই অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই বলেছে প্যাটিস বিক্রেতা তাদের আমিষ প্যাটিসকে নিরামিষ বলে বিক্রি করেছেন। প্যাটিস বিক্রেতার বিরুদ্ধে ময়দান থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। নিরামিষ বলে আমিষ প্যাটিশ বিক্রি করায় তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। অভিযুক্তরা সরব হন।
অন্যদিকে সরকারের তরফের আইনজীবীর দাবি, আমিষ প্যাটিস বিক্রি করার অভিযোগেই বিক্রেতাকে হেনস্থা করা হয়েছে। অন্যকিছু নয়।

