আমাদের ভারত, ৭ জুন: ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে ‘মহামিছিল’-এর ডাক দিয়েছে ‘হিন্দু সংহতি’। এই আয়োজনে দলে দলে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে শুরু হয়েছে প্রচার।
আহ্বায়ক সংগঠনের প্রচারপত্রে লেখা হয়েছে, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্ম হয়। হিন্দু সংহতি এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে উদযাপন করে। ওই দিন কলকাতায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। আমহার্স্ট স্টীটের শ্রদ্ধানন্দ পার্কে দুপুর ২-০০ টোয় জমায়েত।
‘হিন্দু সংহতি’-র সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মঙ্গলবার জানান, “আমরা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে চাইনি। তাই পাকিস্তানকে ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করেছিলাম। এই পশ্চিমবঙ্গ যেন আবার পাকিস্তানে পরিণত না হয় তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব এই প্রজন্মের।
পাকিস্তানের স্বপ্নভঙ্গ/ পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ।।
বাম-জামাতির রণে ভঙ্গ/পশ্চিমবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ।।”
প্রচারের আবেদনে লেখা হয়েছে, “ঘুমায় জাতি আত্মভোলা চেতন হারা আশাহত। দাঁড়িয়ে থাকে বুক চিতিয়ে অপমানের চিহ্ন যত। পুড়ছে বাড়ি ভাঙ্গছে দেউল চলছে জেহাদ বাঁধন ছাড়া, ঘরের কোণে নীরব লাজে গুমরে কাঁদে ধর্ষিতারা।
মানুষ মারে ধর্ম কাড়ে অন্ধ তবু মানবতা। নীরব কবি বুদ্ধিজীবী ভোটের চাতক মন্ত্রী নেতা। জাগবিকি তুই, উঠবি কি তুই, ধরবি কি হাল শক্ত হাতে, প্রতিশোধের শপথ নিয়ে বিশে জুনের সুপ্রভাতে?“
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭-এর ১৫ মার্চ হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে বাঙালির জন্য হোমল্যান্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সমর্থনে এগিয়ে এলেন বাংলার সমস্ত বিদগ্ধজন, ঐতিহাসিক রমেশ মজুমদার, সুনীতি চট্টোপাধ্যায়, পন্ডিত রাম শংকর ত্রিপাঠি। শ্যামাপ্রসাদ বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি যে হিন্দুরা কোনোভাবেই একটা ইসলামিক পাকিস্তানে বেঁচে থাকতে পারবে না। ওই সম্মেলনে ঠিক হয়, বাংলা ভাগের প্রস্তাব এর সমর্থনে ব্যাপক জনমত তৈরি করা হবে। হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকৃতি দিল বাংলার জনগণ। ২৩.০৩.১৯৪৭ এর অমৃতবাজার পত্রিকা জানালো, ৯৮.৩০% বাঙালি হিন্দু বাংলা ভাগের পক্ষে। মাত্র ০.৬% বাঙালি হিন্দু বাংলা ভাগের বিপক্ষে।

