Lodha- Shabar, Midnapur, উচ্চশিক্ষিত লোধা- শবর যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের দাবি, সচেতনতা শিবিরে বঞ্চনার অভিযোগ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ আগস্ট: উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরেও চাকরি না পেয়ে দিনমজুরি, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বিক্রি, কিংবা পাথর খাদানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন বহু লোধা- শবর যুবক- যুবতী। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাচীন জনজাতির মানুষের আর্থ- সামাজিক বঞ্চনার অবসান ঘটেনি বলে অভিযোগ তুলল লোধা- শবর কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের দাবি, বিগত সরকারের আমলেও যেমন তারা উপেক্ষিত ছিলেন, বর্তমান সরকারের কাছেও তারা প্রকৃত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর হলে লোধা- শবর কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক লোধা- শবর জনজাতির মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় জনজাতির আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক দাবি ও সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

লোধা- শবর কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলাই নায়েক অভিযোগ করে বলেন, “আগের সরকারের আমলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন তাদের অনেকেই বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন না। বহু প্রবীণ মানুষ এখনও বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত। আবার বহু উচ্চশিক্ষিত যুবক- যুবতী, এমনকি স্নাতক (বি.এ.) পাশ করার পরও চাকরি পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দিনমজুরি করতে হচ্ছে, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করতে হচ্ছে কিংবা পাথর খাদানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পরও লোধা- শবর সমাজ মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হতে পারেনি। এই বঞ্চনার অবসান হওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, লোধা- শবর সম্প্রদায়ের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শান্তনু দেব, সুরজিৎ নিয়োগী, অধ্যাপক কেশব চন্দ্র মণ্ডল, সমাজসেবী ঝর্ণা আচার্য- সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তি। বক্তারা লোধা- শবর সম্প্রদায়ের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত জনজাতির প্রতিনিধিরাও সরকারের কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সরকারি ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ণ এবং সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *