আমাদের ভারত, ২১ মে: নারদ মামলায় চার হেভিওয়েটের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হলেও তারা গৃহবন্দী থাকবেন। তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু শারীরিকভাবে কেউ বাইরে যেতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বাড়ি থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এ কাজ করতে পারবেন।
এই চার হেভিওয়েটের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে বেশ জটিলতা তৈরি হয়। জামিন মঞ্জুর সংক্রান্ত নির্দেশে দেখা যায় দুই বিচারপতির মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। জামিন মঞ্জুর করেন বিচারপতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু এর বিরোধিতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। তাই এই মামলা নতুন বেঞ্চ গঠিত হয়ে সেখানে না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের গৃহবন্দী অবস্থাতেই থাকতে হবে। এরা সবাই চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সুবিধা পাবেন।
শুক্রবার হাইকোর্টে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় নিয়ে দুই বিচারপতির মধ্যে মতান্তর তৈরি হয়। সেই জন্যই এই গৃহবন্দী রাখার মতো রায় ঘোষণা হয়েছে। এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলেও এই চারজন নেতার জামিন মঞ্জুর হয়েছে তবে তাদের গৃহবন্দী থাকতে হবে। এই মামলার নিষ্পত্তির জন্য এখন তিন সদস্যের বা পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হতে পারে। অন্তর্বর্তী এই রায়ের অর্থ, সুব্রত, ববি, শোভন, মদনকছ জেল হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলো ও তারা বাড়ি যেতে পারবেন, কিন্তু তাদের হাউস অ্যারেস্ট থাকতে হবে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই নিয়ম বহাল থাকবে।
এই চারজনের মধ্যে তিনজনই যদিও এখন হাসপাতালে রয়েছেন। হাসপাতালে থাকা মানেও একরকম গৃহবন্দি থাকা। একমাত্র পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম রয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলে। সেখান থেকে আপাতত জামিন পেয়ে তিনি বাড়িতে যাবেন। তবে তাকে গৃহবন্দী থাকতে হবে।
পরের চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছেন, নারদ মামলায় চার নেতা মন্ত্রী গৃহবন্দী থাকলেও তারা ভার্চুয়ালি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু কোনো অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। একইসঙ্গে সিবিআইকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তৃতীয় বা বৃহত্তর বেঞ্চে এরপর মামলার শুনানি হবে। যতক্ষণ না তা হচ্ছে ততক্ষণ এই রায় বহাল থাকবে। অর্থাৎ জেল বন্দিদশা কাটলেও চারজনকে থাকতে হবে ঘরবন্দি।

