হিলিতে শুল্ক দফতর থেকেই গায়েব কোটি টাকার সোনা, গ্রেফতার বক্সিগঞ্জের কুখ্যাত সোনা পাচারকারী

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৩ মে: শুল্কদপ্তর থেকে সোনা চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হিলির কুখ্যাত সোনা পাচারকারী। সোমবার রাতে ওই ঘটনার তদন্তে নেমে হিলির বক্সীগঞ্জ এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে পার্থ সাহা নামে ওই কুখ্যাত পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে হিলি থানার পুলিশ৷ মঙ্গলবার ধৃতকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করে হিলি থানার পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় শুল্কদপ্তরের দুই অস্থায়ী কর্মীর পরে কুখ্যাত সোনা পাচারকারী গ্রেপ্তার হতেই প্রশ্ন উঠেছে শুল্কদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে।

জানাগেছে, গত নভেম্বর মাসে হিলি স্থলবন্দরের শুল্কদপ্তরের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত করা সোনার বাট আচমকাই উধাও হয়ে যায়। ঘটনার পরেই শুল্কদপ্তরের প্রতিরোধ শাখার ইন্সপেক্টর বলাদিত্য বারিক এনিয়ে হিলি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যে অভিযোগ পেতেই তড়িঘড়ি এই ঘটনার তদন্তে নামে হিলি থানার পুলিশ। তবে বিষয়টি বেশ জটিল থাকায় তদন্তে যথেষ্টই বেগ পেতে হয় তদন্তকারী অফিসারকে। প্রথম ধাপেই এই ঘটনায় শুল্কদপ্তরের দুই অস্থায়ী কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই ঘটনা খোলসা করে তদন্তকারীরা।

এদিকে ওই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তে শুল্কদপ্তরের প্রতিরোধ শাখার ইন্সপেক্টর বলাদিত্য বারিককে বরখাস্ত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরপরেই সোমবার রাতে হিলির বক্সীগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কুখ্যাত সোনা ব্যবসায়ী পার্থ সাহাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানায় হিলি থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাস্টমসের অস্থায়ী দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেই পার্থ সাহার নাম জানতে পারে তদন্তকারী অফিসাররা। কুখ্যাত ওই সোনা পাচারকারীর হাত দিয়েই বিভিন্ন গোপন কারবার চালাত তারা বলেও জানতে পেরেছে তদন্তকারী অফিসাররা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় সোনা বাজেয়াপ্তর ঘটনায় উঠে এসেছে ধৃত পার্থ সাহা নামে ওই কুখ্যাত সোনা পাচারকারীর নাম। তবে কাস্টমস থেকে সোনা উধাওয়ের ঘটনাটি ষড়যন্ত্র করে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সেখানকার কর্মীদের একাংশ৷ যে ঘটনায় নাম জড়িয়েছে কাস্টমসের কর্মী থেকে কুখ্যাত সোনা পাচারকারীর নামও। ঘটনার তদন্তে কাস্টমসের একাধিক কর্তাও ইতিমধ্যে পুলিশি স্ক্যানারে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুল্কদপ্তর থেকে সোনা উধাওয়ের ঘটনায় দুই অস্থায়ী কর্মীর পর কুখ্যাত সোনা পাচারকারী গ্রেপ্তার হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়েছে হিলি সীমান্তে। যা নিয়ে শুল্ক দফতরের কর্তাদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন৷ স্থলবন্দরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ভেঙে কিভাবে কোটি টাকার সোনা উধাও হয়ে গেল সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দারা।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, শুল্ক দফতরের দু’জন অস্থায়ী কর্মীর পর হিলির বক্সীগঞ্জ থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিকে পুলিশ রিমান্ড নিয়ে তদন্তে নামা হয়েছে।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে সোনা পাচারের কারবার বেশ সক্রিয় হয়েছে হিলিতে। পুলিশকে আরো সক্রিয় হতে হবে। ঘটনার পিছনে যারাই থাকুক না কেন কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *