ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।
আমাদের ভারত, ২২ মে: গ্রামে-শহরে, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়াই কৃষিকৃষ্টি, লোকসংস্কৃতির সমীক্ষা ও জনজাগরণের নানান কাজে। সেইভাবে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখে পড়ল বালক বালিকাদের কাঁধে চেপে চলেছেন ঘেঁটু দেবতা।
বেশিদিনের কথা নয়, গত ১৪ ই মার্চ, ২০২১ (২৯ শে ফাল্গুণ, ১৪২৭) সন্ধ্যায় খড়দহের কর্ণমাধবপুর গ্রামে দেখলাম তিন বালক-বালিকাকে, যারা কলার দেল বা পাল্কি নিয়ে ঘেঁটুঠাকুরের গান গেয়ে বেড়াচ্ছে বাড়ি বাড়ি। গৃহস্থ থালা ভরে চাল-আলু ও টাকা দিয়ে আবদার মেটাচ্ছে।
সেদিন ছিল ফাল্গুণ সংক্রান্তি, ঘেঁটু ঠাকুরের বার্ষিক পূজার দিন। তিনি ভন্টাকী বা ভাঁট/ঘেঁটু গাছের অধিষ্ঠাতা দেবতা, সূর্য ও ধর্মঠাকুরের লৌকিক রূপ, কুষ্ঠ ও চর্মরোগের নিরাময়কারী দেব। বসন্ত কালে খোসপ্যাঁচড়া, ছোঁয়াচে চর্মরোগের হাত থেকে রেহাই পেতে কয়েকদিন সকালে কচি ঘেঁটু পাতার তিতো রস সেবন, পাতা বেটে তা হলুদের সঙ্গে মিলিয়ে গায়ে মাখা– এটাই ছিল বঙ্গদেশের লোকৌষধ। আর ছিল ঘেঁটু বা ঘন্টাকর্ণ নামক দেবতার পূজানুষ্ঠান।
দিনের বেলায় গ্রাম্য পথের ধারে অথবা জলাশয়ের পাড়ে ভাঙ্গা হাঁড়ি উল্টে তার উপর গোবরের মন্ড করে নির্মিত হয় দেবতার মুখ, তাতে কড়ির চোখ আর সিঁদুরের টিপ, গায়ে হলুদ-ছোপা এক টুকরো কাপড়। পূজার আয়োজনে দূর্বা আর ভাঁটফুল, সামান্য বাতাসা। পূজা শেষে শিশুর দল কলার মান্দাসে তৈরি করে নেয় পাল্কি। তা কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছড়া কেটে বেড়ায়। চালডাল, সব্জি ইত্যাদি সংগ্রহ করে, তারপর রাতে রেঁধে একসঙ্গে ভোজন করে।
“ঘেঁটু যায় ঘেঁটু যায় গৃহস্থের বাড়ি এক কাঠা চাল দাও কুমড়োর বড়ি।
যে দেবে থালা থালা তার হবে কোঠা-বালা যে দেবে মুঠো মুঠো তার হবে হাত ঠুটোঁ।
যে দেবে এক পলা তেল তার হবে সোনার দেল।
যে দেবে শুধু বকুনি ঘাঁটু দেবে খোসচুলকানি।”
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার এই সংস্কৃতি। ছোট্ট বাচ্চাদের তৈরি কলার দেলে চেপে ঘেঁটু ঠাকুরের যাত্রাপথ আমাকে লোকসংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া অধ্যায় আবার স্মরণ করিয়ে দিল।
শুনুন ঘেঁটু পুজোর গান


কাগজটি কি রোজ পড়তে পারবো ?
কাগজটিকে কি কোনো ভাবেই ছাপানোর ব্যবস্থা করা যায় কি
কাগজ টিকে প্রত্যহ ছেপে বার করার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা উচিত। কারন অনেকেই অনলাইনে কাগজ পড়তেই ভালোবাসেনা।পঃবঃ বর্তমানে বাজার চলিত সমস্ত বাংলা খবরে র কাগজ গুলি সব চাটুকার এ পরিণত হয়েছে। সুতরাং একটি চেষ্টা করা উচিত।