আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ৩০ মে: প্রায় বছর দুয়েক আগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে কয়েকজন তরুণ হাতে হাত মিলিয়েছিলেন। তাদের ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে আর্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছিলেন। তখনও ভাবেননি এই অতিমারিতে তাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আজ তারাই রামপুরহাটের করোনা আক্রান্তদের কাছে ত্রাতা। পাশে পেয়েছে রেড ভলান্টিয়ারের সদস্যদের। রবিবার ছুটির দিন সকলে যখন বাড়িতে বসে ভালোমন্দ খেতে ব্যস্ত, তখন গ্রামে গ্রামে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে ওই তরুণরাই।

বছর দুয়েক আগে রামপুরহাট শহরের কয়েকজন তরুণ নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। পুজোয় দুঃস্থদের নতুন কাপড়, ভালোমন্দ খাবার পৌঁছে দিয়েছেন তারা। বছরখানেক ধরে করোনা অতিমারিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন “সওগাত” নামক সংস্থা। করোনার প্রথম দিন থেকে দুঃস্থদের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিয়েছে তারা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেন মজুত করে রাতভর পৌঁছে দিচ্ছেন করোনা আক্রান্তের বাড়িতে। একই সঙ্গে পৌঁছে দিচ্ছে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। রবিবার সকাল থেকে রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের দেখুড়িয়া গ্রামে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেন তাঁরাই। দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ। মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন রামপুরহাটের বিশিষ্ট জেনারেল ফিজিসিয়ান চিকিৎসক প্রীতি প্রসন্ন রায়। দেখুড়িয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চলা ওই ক্যাম্পে সাহায্য করে রেড ভলান্টিয়ারের সদস্যরাও। ক্যাম্পে পাঁচটি গ্রামের ৯২ টি পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে এক হাজার মাস্ক ও ১৫০ স্যানিটাইজার দেন মল্লারপুর টুরকু হাঁসদা লপসা হেমরম কলেজের অধ্যক্ষ অমিত চক্রবর্তী। সেই সমস্ত মাস্ক ও স্যানিটাইজার ক্যাম্প থেকে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সুপ্রিয় সেন, তুষার মণ্ডল, রাহুল চট্টোপাধ্যায়, বাপি দাস, সুলতান খানরা বলেন, “আমরা কেউ বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি। কেউ সরকারি চাকুরে। মাঝে মধ্যে আর্ত মানুষদের দেখে নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করতে থাকি। তখনও ভাবিনি করোনার অতিমারি আমাদের আতঙ্কিত করে তুলবে। এখন করোনা অতিমারি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল”।


