আমাদের ভারত, ৩০ অক্টোবর:আতশবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো আতশবাজি উন্নয়ন সমিতি। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট এই রায় দেয়। এরপর শনিবারেই এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিল করে সমিতি। সোমবারই এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বাজির উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নেই, শুধুমাত্র নাগরিকদের স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে সেই সব বাজি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ দেশের সর্বোচ্চ আদালত পরিবেশবান্ধব আতশবাজিতে ছাড় দিয়েছিল। জাতীয় পরিবেশ আদালতও তাতে সীলমোহর দিয়েছে। কিন্তু পরিবেশকর্মী রোশনি আলির দায়ের করা এক মামলার ভিত্তিতে শুক্রবার সব ধরনের বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ করে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে শুধুমাত্র প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বেলেই দীপাবলি, ছট কিংবা গুরু নানকের জন্মদিন পালন করতে হবে। উৎসবে কোনো আতশবাজি ব্যবহার করাই যাবে না। এক্ষেত্রে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য করোনা তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন।
আদালত জানতে চায়, পরিবেশবান্ধব বাজির অনুমতি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ দিলেও সেগুলি কিভাবে পরীক্ষা করা হবে বা সাধারণ বাজিকে পরিবেশবান্ধব বাজি বলে বিক্রি করা হবে না তার নিশ্চয়তা কিভাবে পাওয়া যাবে?
এই পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে আতশবাজি উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান বাবলা রায় বলেন, আদালতের একটি রায় তখনই সঙ্গত হয় যখন তা কার্যকর হয়। ঠিক তেমনই আতশবাজি পরীক্ষার পর সরকারের সীলমোহর পরলে তবেই সেটা পরিবেশ বান্ধব বাজির মর্যাদা পায়। আর তারপরেই সেটা ব্যবহার করা হয়।
সমিতির তরফে বলা হয়েছে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে। তাই আতশবাজি উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা আশাবাদী এই সংক্রান্ত যেকোনো নির্দেশ দেওয়ার আগে সবদিক খতিয়ে দেখবে দেশের শীর্ষ আদালত।

