প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৩০ অক্টোবর: দিনের শেষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠলো খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্র। প্রয়াত বিধায়ক কাজল সিনহার ছেলে আর্যদীপ সিনহার কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে মার খাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল খড়দহের বন্দিপুরে।

শনিবার রাজ্যের ৪ কেন্দ্রে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্যে সব থেকে আলোচিত ও নজরকাড়া কেন্দ্র ছিল খড়দহ বিধানসভা কেন্দ্রটি। এদিন সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল বিজেপি প্রার্থী জয় সাহা। সেই সঙ্গে কোথাও জমায়েত দেখলে সেই জমায়েত সরানোর কাজও করছিলেন ওই বিজেপি প্রার্থী। তিনি বিভিন্ন বুথে ভুয়ো ভোটার থাকার অভিযোগ করেন।
এদিন বিভিন্ন বুথ ঘুরতে ঘুরতে ভোট শেষের প্রায় অন্তিম লগ্নে খড়দহ বিধানসভার অন্তর্গত বন্দিপুর আইডিয়াল অ্যাকাডেমী নির্বাচনী বুথের বাইরে জাল ভোটারকে ধরে ফেলে বিজেপি প্রার্থী জয় সাহা। ওই বুথের আশেপাশে থাকা তৃণমূল কর্মীরা বিভিন্ন বুথে বুথে জয় সাহার ঘোরার প্রতিবাদ করতে থাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীদের সাথে প্রার্থী জয় সাহা প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। এই জমায়েতের মধ্যে ছিলেন খড়দহের প্রয়াত বিধায়ক কাজল সিনহার ছেলে। তিনিও অন্যান্য তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে মিলে জয় সাহার সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি চার্জ করলে সেই লাঠির ঘায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কাজল সিনহার পুত্র। এই ঘটনায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। গুরুতর অসুস্থ আর্যদীপ সিনহাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

অসুস্থ অবস্থায় কাজল সিনহার পুত্র অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। তার মাথায় ও বুকে মেরেছে। অপর দিকে বিজেপি প্রার্থী দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা তার ওপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। একসময় বিজেপি প্রার্থী জয় সাহার সাথে প্রয়াত কাজল সিনহার ছেলে আর্যদীপ সিনহা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন প্রকাশ্যে। আর সেখানেই তাকে বাঁচাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি চার্জ করে। সেই লাঠির ঘায়ে মাথা ফাটে তার। এদিন হাসপাতালে আর্যদীপ সিনহাকে দেখতে যান সাংসদ সৌগত রায় ও বিধায়ক পার্থ ভৌমিক।
সৌগত রায় বলেন, “কাজল সিনহার ছেলে বন্দিপুরের ওই বুথের পাস দিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের হঠাৎ করেই জড়িয়ে ধরে জয় সাহা। আর জয় সাহার সাথে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী এদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এখন ওদের চিকিৎসা চলছে। আর আমরা বিজেপি প্রার্থী ও তার নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের দারস্থ হচ্ছি। আমরা ওদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাই।”

