পুরুলিয়ার ‘উচ্ছ্বাস’এর বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠানে শান্তির আর্জি

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ এপ্রিল: যুদ্ধ হিংসা হানাহানি নয়, শান্তির বার্তা নিয়ে বৈচিত্রমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা বছর ১৪২৮-কে বিদায় জানালেন পুরুলিয়াবাসী। এরই অঙ্গ হিসেবে বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘উচ্ছ্বাস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। আজ সকালে পুরুলিয়ার সুভাষ পার্কে আয়োজিত বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে বছরের বিভিন্ন ঘটনা মঞ্চস্থ করেন জেলার বিভিন্ন কলা কুশলীরা।

নৃত্যের মাধ্যমে ‘মহাভারত’ মঞ্চস্থ হয়। যেখানে নৃত্য শিঞ্জন নামে নৃত্য গোষ্ঠীর শিল্পীরা যুদ্ধের খারাপ দিকও তুলে ধরেন। একইভাবে বাবা সাহেব ভিম রাও আম্বেদকরের জন্মদিবস উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় নৃত্য শিল্পী এষনা সিংহ। সাত সকালের অনুষ্ঠানে শুধু অংশ নিতেই নয় মনোজ্ঞ ভাবে পুরানো বছরকে বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন বহু বিশিষ্টজন। সকালের এই অনুষ্ঠান তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন সংস্কৃতি প্রিয় মানুষজন।

ক্ষুদে-কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক যুবতীদের মিশেলে এদিনের প্রভাতী অনুষ্ঠান দাগ কাটল উপস্থিত সংস্কৃতি প্রেমীদের। গান কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্যের মধ্যে দিয়ে বাংলা বর্ষ বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাগত জানানো হয় নতুন বছরকে। আয়োজক। ‘উচ্ছ্বাস’-এর অন্যতম সদস্য পেশায় শিক্ষক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা আমাদের পঞ্চম বর্ষের অনুষ্ঠান। এই বছর সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোাধ্যায়ের মতো সঙ্গীত তারকাদের হারিয়েছি। অনুষ্ঠানে তাঁদের স্মরণ করেছেন স্থানীয় গায়িকা সঞ্চারী ব্যানার্জি। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় কাব্যায়ন, প্রিয়মঞ্জরি নামের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি।”

আয়োজকদের অন্যতম শিক্ষক শুভাশীষ গুহনিয়োগী বলেন, “বাংলা এবং বাঙালিয়ানা এই দুটোই কেমন যেন নবীন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে। উচ্ছ্বাস হারিয়ে যেতে বসেছে- যা কাম্য নয়। অথচ, পুরুলিয়া জেলায় প্রচুর সংস্কৃতি চর্চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রযেছে। তাই, সেই প্রতিষ্ঠান এবং কয়েক জন শিল্পীর সহযোগিতায় বাংলা নব বর্ষের প্রাক্কালে বর্ষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য আমরা স্থির করি। এই অনুষ্ঠানে সব ধরনের সৃষ্টিকে উপস্থাপিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকে সফল করে তুলেছেন স্থানীয় কলাকুশলীরা।”

অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চের এক পাশে রং তুলিতে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ক্ষেত্রে ধ্বংসস্তুপের মাঝে সেনারা আপনজন হারানো শিশুর হাতে গোলাপ তুলে দেওয়ার ভাবনা ফুটিয়ে তোলেন চিত্র শিল্পী অনুষ্টুপ চ্যাটার্জি। মানবতার গান করে ‘উচ্ছ্বাস’। শবর সম্প্রদায়ভুক্ত দুই দেওয়াল চিত্রকরকে সংবর্ধিত করা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। টামনা থানার গোঁসাইডি গ্রামের সোনামনি শবর ও আরতি শবর মাটির বাড়ির দেওয়ালে তাদের কল্পনা মনের মাধুরী দিয়ে চিত্রকলা ফুটিয়ে তোলে ফি বছর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *