রায়গঞ্জে নীলকুঠির খোঁজ মেলায় চাঞ্চল্য

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১৭ জানুয়ারি: উত্তর দিনাজপুরের জেলা সদর রায়গঞ্জ শহরের উত্তর প্রান্তে পশ্চিম সুদর্শনপুর এলাকায় একটি ধ্বংসপ্রায় নীলকুঠির হদিস মেলায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার ইতিহাস প্রেমী মানুষদের মধ্যে। রায়গঞ্জের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বৃন্দাবন ঘোষ দাবি করেন, ওই এলাকায় বেশকিছু চৌবাচ্চার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ের চিহ্ন মেলায় এটাই প্রমাণিত হয় কুলিক নদীর তীরবর্তী ওইখানে ব্রিটিশ আমলে নীলকুঠি গড়ে তুলেছিল। সেখানে রীতিমতো নীল গাছ সিদ্ধ করে তা থেকে নীল উৎপাদন করা হত। সেগুলি ওইখানে নির্মিত ঘরগুলিতে জমা করে রাখা হত। সেই ঘরগুলোর ধ্বংসাবশেষের হদিস মিলেছে।

ইতিহাসের দীর্ঘ সাক্ষী বহনকারী এই নীলকুঠিটিকে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করার দাবি উঠেছে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলার নীলচাষ ছিল অতি প্রচলিত কৃষিকাজ। অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে বস্ত্র শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। সেইসময় ইংল্যান্ডে প্রচন্ডভাবে নীলের চাহিদা দেখা দেওয়ায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বাংলায় চাষীদের দিয়ে নীলচাষ করতে বাধ্য করে প্রচুর মুনাফা লুটত।

সেই সময়কালেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে নীলকুঠী। পশ্চিম সুদর্শনপুর এলাকায় এমনই এক নীলকুঠী ছিল বলে দাবি। যেই জায়গায় আজ বসবাস করছেন এলাকার অশীতিপর বৃদ্ধা সিন্ধু রায়। তিনি জানিয়েছেন, নীলকুঠির কিছু ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান, যা আজও বহু ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, কুলিক নদীর তীরের জমিতে একসময় প্রচুর নীলচাষ হত। নীলচাষের জন্যই তৈরি করা হয়েছিল নীলকুঠী। জমিতে কৃষকদের নীল চাষ করতে বাধ্য করত অত্যাচারী নীলকর সাহেবরা।

এই কুঠীতে বড় বড় ঘর ছিল, ছিল লম্বা বারান্দা। নীলগাছ জাঁক দেওয়ার জন্য ছিল সার সার চৌবাচ্চা, আর নীল শুকানোর জন্য বিশালাকারের বেশ কয়েকটি উনুন। আজও তার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। জেলার ইতিহাসবিদ ও গবেষকেদের দাবি, এই নীলকুঠীর ধ্বংসাবশেষ সংস্কার করে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে তার স্বীকৃতিদানে যথাযথ পদক্ষেপ করা হোক। তা করা হলে উত্তর দিনাজপুর জেলার এই নীলকুঠী অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *