স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম ড্রাগন ফলের নাম শুনেছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষক অজিত মাহাতো। এরপর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইউটিউবে চাষের পদ্ধতি ঘেঁটে বার করেন।তারপর সরকারি সাহায্য পেয়ে কৃষি দফতরের থেকে তিনবছর আগে চারা এনে নিজের একবিঘে জমিতে এই ফলের চাষ করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে করণদিঘি ব্লকের কইতোর গ্রামের বাসিন্দা অজিত বাবু। এই ফল চাষ করে আয়ের মুখ দেখতে পাওয়ায় আগামীতে এই চাষকে আরও ব্যাপক আকারে নিয়ে যাবার চিন্তাভাবনা করছেন অজিতবাবু।

জেলার আর পাঁচটা কৃষকের মতোই একসময় নিজের জমিতে ধান, ভুট্টা চাষ করতেন তিনি। এই প্রথাগত চাষ করে যে পরিমাণ খরচ হয় ফসল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পারেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানতে পারেন এই ফল খেলে মানুষ ২২ রকমের উপকার পাবেন। মানুষ এখন বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। জটিল রোগ রক্তপ্লতা, হৃদরোগ, ক্যান্সার সহ ২২ ধরনের রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এই ড্রাগন ফল। অজিতবাবুর একজন বর্ধিষ্ণু কৃষক। নিজের সাত থেকে আট বিঘা জমি আছে। সেই জমির অল্প কিছু জায়গায় কৃষি দফতরের থেকে আনা এই ড্রাগন ফল চাষ করলে আর্থিক দিক থেকে খুব বেশি সমস্যায় পড়বেন না। সেই ভাবনা বছর তিনেক আগে ১০টি চারা নিয়ে আসেন। এই চাষের খুব বেশী খরচ হয় না। পরিচর্যার করে ব্যাপক সাফল্য আসে। বর্তমানে এক বিঘা জমি অজিতবাবু ড্রাগন চাষ করছেন। শুধু ড্রাগন চাষ করেই তিনি থেমে
থাকেননি। সেই জমিতেই তিনি আঙ্গুর, কাজুবাদাম চাষ করছেন। অজিতবাবু জানান, পুরোপুরি জৈব সার দিয়ে এই চাষ করছেন। তাতে ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি জেলার টুঙ্গিদিঘি হাট এবং রায়গঞ্জের বাজারে এই ফল কেজি প্রতি ৫০০টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। কাজেই বর্তমানে এই ফল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন তিনি।নিজের মতো অন্যান্য চাষীদেরকেও এই ফলের চাষের জন্য উৎসাহিত করতে চান তিনি। সরকারি সাহায্য নিয়ে এই চাষে মনোনিবেশ করলে আগামীতে জেলার অনেক কৃষক উপকার পাবেন বলেই দাবি তার।

অজিতবাবু বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেই আমি এই ফল চাষ করার ব্যাপারে মনস্থির করি। এরপর আমার এক আত্মীয়ের সাহায্যে চারা এনে চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। তারপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি। লাভের মুখ দেখছি। কৃষি দফতর আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।” এই বিষয়ে করণদিঘির বিডিও নিতেশ তামাং বলেন, “কৃষি দফতরের সাহায্যে এখন এই কৃষক ড্রাগন ফ্রুট চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাকে দেখে অন্যান্য কৃষকদেরও এই চাষে এগিয়ে আসা উচিৎ।”


