দেশভাগের ৭৫ বছর শীর্ষক আলোচনা সভা

আমাদের ভারত, ২১ জুলাই: স্বাধীনতার ৭৫ তম অমৃত মহোৎসব উপলক্ষ্যে স্বাধীনতা ও দেশ ভাগের ৭৫ বছর বিষয়ের ওপর একটি এক দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল ‘মাকাইয়াস’ (মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ) কলকাতায়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল বঙ্গ বিদ্যার্থী ও ‘শোধ’-এর (স্টুডেন্ট ফর হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট অফ হিউমিনিটি ফাউন্ডেশন)
পক্ষ থেকে।

উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডক্টর অচিন্ত্য বিশ্বাস (প্রাক্তন উপাচার্য গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়), ডক্টর মোহিত রায় (পরিবেশবিদ এবং সমাজ ত্বাত্বিক গবেষক), ডক্টর স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ (অধিকর্তা মাকাইয়াস), বলরাম দাস রায় (পূর্ব ক্ষেত্র বৌদ্ধিক প্রমুখ), মনোরঞ্জন জোদ্দার (অধ্যাপক বঙ্গবাসী কলেজ), শ্রীনিবাস (পূর্ব ক্ষেত্র এবং উত্তর পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠন সম্পাদক, ভারতীয় কিষান সংঘ)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ও ছাত্র ছাত্রীরা।

ডক্টর অচিন্ত্য বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে মনে করিয়ে দেন কীভাবে স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই কংগ্রেস ও বামপন্থীরা একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিয়ে একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্যে তাদের অত্যাচারগুলোকেও স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ করে দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিতুমীরের আন্দোলন উল্লেখ্য করেন। বলেন যে তিতুমীর কোনও স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না, বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অকথ্য অত্যাচার করেন। অথচ বামপন্থীরা তার নোংরামি ঢাকার চেষ্টা করে গেছেন। এমন আরও অনেক উদাহরণের মাধ্যমে তিনি বামপন্থী ও কংগ্রেস একটা মিথ্যা ভাব এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা বুঝিয়ে দেন।

এরপর মোহিতবাবু তাঁর বক্তব্যে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কথা বোঝাতে গিয়ে বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ একটা আগুনের স্তূপের ওপর বসে আছে। সেই গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং থেকে শুরু করে বর্তমানে সিএএ নিয়ে বিরোধ করতে গিয়ে ট্রেন পোড়ানো হোক বা নূপুর সর্মার বিরোধিতা করতে গিয়ে বেথুয়াডহরি, ডোমজুর, সালকিয়া প্রভূতি জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস, হিন্দুদের ওপর নির্যাতন। তাই এখনই সংঘবদ্ধ না হলে পশ্চিমবঙ্গকেও হারাতে হবে।

স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন যে বর্তমান বাঙালি হিন্দুদের প্রধান শত্রু বাঙালি তথাকথিত হিন্দু নিজেই। কারণ তারা তাদের নিজের ইতিহাস ভুলে গেছে। নিজের গর্বিত সভ্যতা সংস্কৃতি ভুলে গেছে। এখন আর কেউ হিন্দু আচার অনুষ্ঠান করে না। ফলে কেউ যদি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কটুক্তি করে তার প্রতিবাদে একজন হিন্দুও এগিয়ে আসে না। তাই অন্যের ওপর দোষারোপ করার আগে নিজেদের নিজের সংস্কৃতি আচার পদ্ধতিকে আপন করে নিয়ে ভালোবাসতে হবে। নিজ নিজ ছেলে মেয়েদের নিজেদের শিক্ষায় বলীয়ান করে তুলতে হবে। তবেই নবজাগরণ সম্ভব।

বলরাম দাস স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলিদান ও তাদের ঘটনা তুলে ধরেন। কিভাবে শুধু মাত্র হিন্দু সম্প্রদায় নিজের দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেকে বলিদান দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর কিভাবে ভারতের পরপর একটা বিশেষ শ্রেণির শিক্ষামন্ত্রী সেইসব ইতিহাস মুছে দিয়ে ভারতীয় সভ্যতার গৌরব ও বীরত্ব মুছে দিতে চেয়েছেন সেই বিষয়তেও আলোকপাত করেন।

অধ্যাপক মনোরঞ্জন জোদ্দার স্বাধীনতার প্রাক্কালে শুরু হওয়া যে একধরনের মানসিকতা দেশ ভাগের জন্যে দায়ী সেটা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কিভাবে একটা মানসিকতা একটা অখণ্ড ভূমিকে তিন ভাগ করে এবং সেই মানসিকতার এখনও পর্যন্ত কাজ করে চলেছে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধ করার জন্যে। কিভাবে সেই মানসিকতা হিন্দু নর নারীদের ওপর অত্যাচার করে একটা ইতিহাস পাল্টাতে চেয়েছে সেটাও পরিষ্কার করে দেন। সর্বশেষে তিনি এই মানসিকতার মোকাবিলা করে সমূলে উৎখাত করার বার্তা দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।

শ্রীনিবাস বলেন, দেশে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। ভারতবর্ষকে সুবর্ণময় কেশরী তৈরি করতে হবে। দেশভাগের যন্ত্রণার আগুন মনে জ্বালিয়ে আগামীদিনে বিভাজনের বিরুদ্ধে গঠন মূলক কন্ঠস্বর তৈরি করতে হবে।

উপস্থিত বিশিষ্ট জনের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে বিশেষ সংখ্যা ‘মাসিক বঙ্গবিদ্যার্থী’ প্রকাশ করা হয়।

1 thoughts on “দেশভাগের ৭৫ বছর শীর্ষক আলোচনা সভা

Leave a Reply to Pancake Munich lAgova Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *