পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ এপ্রিল: মেদিনীপুরে গেলেই রেলের ‘৬৭৭ নম্বর’ বাংলোতে থাকেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বাংলোটি অবৈধভাবে ‘দখল’ করে আছেন দিলীপ ঘোষ বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি দেবাশিস চৌধুরীর। রেলের কাছে আরআইটি করার পরেই এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ওই নেতার। পাল্টা দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘বাংলো অবৈধ নয়, দিলীপ ঘোষও অবৈধ নন।’
খড়্গপুর শহরের সাউথ সাইড এলাকায় রয়েছে রেলের ‘৬৭৭ নম্বর’ বাংলো। নিজের পূর্ববর্তী সংসদ এলাকায় গেলেই দিলীপ ঘোষের ঠিকানা হয় এই রেল বাংলো। ওই বাংলো কার নামে বরাদ্দ সেটা জানতেই আরটিআই করেন তৃণমূল নেতা। দেবাশিসবাবু দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রেলের তরফে আরটিআই-এর জবাব মিলেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, রেলের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষার কান্তি ঘোষের জন্য ওই বাংলো বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে, ২০২০ সালের মার্চ মাসেই সেই মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এই মুহূর্তে ওই বাংলো কারও নামেই বরাদ্দ নেই।
দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বাংলো ‘জবরদখল’ করার অভিযোগ তুলে দেবাশিসবাবু বলেন, ‘অবিলম্বে ওই বাংলো থেকে দিলীপ ঘোষকে তুলে দেওয়া উচিত। না হলে আমরা রাজনৈতিকভাবে পথে নামব। কারণ, ওই বাংলোর অনতিদূরেই ডিআরএম থাকেন, আরপিএফের সিকিউরিটি অফিসার থাকেন। দিলীপ ঘোষ ওই বাংলো দখল করে রাখার ফলে বাংলোতে বহু বহিরাগত লোকের যাতায়াত বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে
আরপিএফ- এর গোপন তথ্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে চলে যেতে পারে।’
শনিবার বিকেলে বেলদায় রামনবমীর একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওই বাংলোও অবৈধ নয়, দিলীপ ঘোষও অবৈধ নন। আমি বিধায়ক হওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে ওই বাংলোতে থাকি। দু’দফায় বাংলো অ্যালটমেন্ট করা হয়েছে। এখন প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটি নেই বলে নতুন অ্যালটমেন্ট হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।’
এর পরেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি নেতা বলেন, ‘দেবাশিস চৌধুরীরা খড়্গপুর শহরজুড়ে রেলের জায়গায় অবৈধভাবে পার্টি অফিস গড়ে তুলেছেন। গায়ের জোরে, টাকার জোরে জায়গা দখল করেছেন। প্রস্তুত হয়ে যান, সেই সব জায়গায় এবার বুলডোজ়ার চলবে খুব তাড়াতাড়ি। এই বিষয়ে খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএম কে আর চৌধুরী বলেন, ‘যা জানানোর আরটিআই-তে জানানো হয়েছে। সব কিছু আইন মেনেই করা হবে।’