পড়ুয়াদের লাগাতার বিক্ষোভ সত্বেও মেদিনীপুরে অফলাইনেই পরীক্ষা

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৭ জুন: পড়ুয়াদের লাগাতার বিক্ষোভ সত্বেও মেদিনীপুর শহরে গোপ কলেজ অর্থাৎ রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অফলাইনেই পরীক্ষা হচ্ছে। বিক্ষোভের চাপে রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেখানে অনলাইনেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে ৬৫ বছরের প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের কঠোর মনোভাবকে স্বাগত জানাচ্ছেন শিক্ষানুরাগীরা।

অনলাইনেই পরীক্ষার দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন ছাত্রীরা। শনিবারের পর সোমবার সকাল থেকে মহাবিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের গেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। সন্ধ্যার পরেও ওঠেনি বিক্ষোভ। অনলাইন পরীক্ষার দাবিতে অনড় ছিলেন তারা। অন্যদিকে মহাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনড় অফলাইনে পরীক্ষার ব্যাপারে।

ছাত্রীদের দাবি, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত অন্যান্য কলেজে অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ হয়েছে। এই কলেজে তা গ্রহণ করেনি। এক ছাত্রীর দাবি, “কলেজের অধ্যক্ষা তাদের জানিয়েছেন, সোমবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে আমরা দাঁড়িয়ে থাকলেও চার ঘন্টা পর জানান, জুন মাসের ২৩ তারিখ অফলাইনে পরীক্ষা হবে। এক সপ্তাহ পরীক্ষা পেছনোর জন্য আন্দোলন করিনি। অনলাইনে পরীক্ষার দাবিতে আমরা আন্দোলন করছিলাম।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা জয়শ্রী লাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, “স্নাতক স্তরে ষষ্ঠ এবং আমাদের স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় সেমেস্টার অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ কারণে পিছিয়ে ঠিক হয় ১৩ জুন হবে। এখন ঠিক হয়েছে পরীক্ষা হবে ২৩ জুন। ছাত্রীদের দাবির যথেষ্ঠ যৌক্তিকতা নেই।” এক অভিজ্ঞ শিক্ষিকা বলেন, “নিছক টোকার জন্য নানা অজুহাত দেখিয়ে পড়ুয়ারা অনায্য দাবি করছিলেন।

প্রতিবাদী এক ছাত্রী জানান, “অন্যান্য কলেজে অনলাইনে পরীক্ষা হওয়ায় তারা বেশি নম্বর পাবে। সেই তুলনায় আমরা পিছিয়ে যাব এবং প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি অফলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার। সেখানেও আমরা ব্যর্থ হব।” ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ, আন্দোলন করলে তাদের নামে এফআইআর করা হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

অধ্যক্ষা বলেন, “আমরা গ্রীষ্মের অবকাশে মূলত অফলাইনেই পঠনপাঠন করিয়েছি। পরীক্ষা তাই অফলাইনে না নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। ২০ মে মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনমন্ডলীর (জিবি) বৈঠকে চেয়ারম্যান তথা উপাচার্য ডঃ আশুতোষ ঘোষও নির্দেশ দিয়েছিলেন পরীক্ষা অফলাইনে নেওয়ার। আসলে নিয়মিত পরীক্ষায় একটা ছেদ পড়ায় পড়ুয়াদের একাংশ ভয় পাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ওঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা পড়ুয়াদের মধ্যে আস্থা আনার চেষ্টা করি। পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করেছি, সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওঁদের জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হবে।”

এক অধ্যাপিকা বলেন, “বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৩ মে জিবি বৈঠকে অফলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েও ১৫ই সিদ্ধান্ত বদলে অনলাইনে পরীক্ষার ঘোষণা করে। এতে আমাদের পড়ুয়ারাও হয়ত আশা করেছিলেন আমরাও অনলাইনে পরীক্ষা নেব। কিন্তু আমরা অনড় থাকায় ওঁদের একাংশ আশাহত হতে পারেন। কিন্তু পড়াশোনা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমরা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *