অভিযোগ জানানোর পরও আউশগ্রামের ঘরছাড়া পরিবারদের কাছে পৌঁছাল না সরকারি ত্রাণ

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৯ জুন: দুর্দাশার পরিস্থিতি জানানোর ৪৮ ঘন্টা পরও মিলল না সরকারি সহায়তা। মুষলধারায় বৃষ্টির রাতে এক তাবুতেই রাত কাটাতে হল আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জের ঘরছাড়া বিজেপি পরিবারদের। আধ পেট খেয়ে ক্লান্তিতে ঘুমে আচ্ছন্ন শিশুরা। বুধবারও মর্মান্তিক ছবি ধরা পড়ল আউশগ্রামের ভাতকুন্ডায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর। 

  প্রসঙ্গত, গত ২ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রাত থেকে রাজনৈতিক হিংসায় ঘরছাড়া আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জের ২৮ পরিবার। ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুরের পাশাপাশি লুট হয়ে গেছে যাবতীয় সামগ্রী। সংসারে বেঁচে থাকার রশদটুকুও নেই। উধাও গবাদি পশু থেকে মাঠের সাবমার্শিবাল। পচে নষ্ট হচ্ছে মাঠে পাকা ধান। বুধবার একপ্রকার নিরাশ্রয় পরিবারগুলো জানান, “রাতভর বৃষ্টি। রান্না করা যায়নি। ত্রিপলের ওপর বসে কেউ মুড়ি, কেউ চিড়ে খেয়ে রাত কাটিয়েছে। বাচ্চাদের সেরকম কিছু খাবার জোটেনি। তার ওপর সাপের উপদ্রব। বৃষ্টির জলে ভেসে আসছে বিষধর সাপ। রাতভর আতঙ্কে কেউ ঘুমোতে পারেনি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা লাটে উঠেছে। রাতে পুলিশ এসেছিল। নিজের মতো করে বাড়ি ফিরতে বলেছে।” পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, “এখানেই রাতে প্রথমদিন বোমাবাজি করে গেছে দুষ্কৃতিরা। গ্রামে ফিরলে আরও অত্যাচার করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ত্রাণ সাহায্য এখনও জোটেনি। ঘরবাড়ি সবই ভাঙ্গাচোরা। বৃষ্টিতে সেখানে থাকা অসম্ভব। নতুন করে ছাউনী না করলে থাকা যাবে না।”

ছবি: ঘরছাড়া পরিবারগুলির গ্রাম।
সিপিআইএমএল (রেডস্টার) বর্ধমান জেলা সম্পাদিকা ফতেমা বেগম জানান, “আমরা লিখিত জানিয়ে এসেছি। তারপরও প্রশাসনের ভুমিকায় সন্দেহ রয়েছে। সরকারি ত্রাণ এখনও দেয়নি। শুকনো খাবার কিম্বা চাল পর্যন্ত দেয়নি। পুলিশ বলে এসেছে, নিজেরা বাড়ি ফিরে যাক। পরিবারগুলোর ওপর আরও অত্যাচার হলে তার দায় কে নেবে? অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করেনি। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। ওইসব অসহায় মানুষদের পাশে রয়েছি। সুবিচার দিতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”

ছবি: ভাঙ্গচুরের ছবি।
যদিও এদিন আউশগ্রাম -২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হায়দার আলি বলেন, “প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে। তাদের বাড়ি ফিরতে বলেছি। প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *