Khatra, TMC, খাতড়ায় প্রধান ও উপপ্রধানের অপসারণের দাবি

আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৯ জুলাই: প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিত পঞ্চায়েতে না আসায় উন্নয়নের কাজ ও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের কাছে এই অভিযোগ জানিয়ে প্রধান ও উপপ্রধানকে অপসারণ করার দাবি জানাল পঞ্চায়েতের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। এনিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এলাকায়।

এপ্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, বিজেপির টিকিটে জয়ী দুই সদস্যকে দলে টেনে তাদের প্রধান ও উপপ্রধান করে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন বা ক্ষমতা দখল করেছিল তৃণমূল। রাজ্যে সরকার বদলের পর এই দুই দলবদলুদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে অপসারণের দাবিতে সরব হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা। এই ঘটনাটি ঘটেছে জেলার খাতড়া ব্লকের দহলা গ্রাম পঞ্চায়েতে।

এই পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১৮ জন। গত ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ৬টি, বিজেপি ৫টি, সিপিএম ৫টি ও আদিবাসী কুর্নি সমাজ সমর্থিত নির্দল ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির দুই সদস্যকে দলে টেনে নিয়ে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল। প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই দুই দলবদলুকে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন করে তৃণমূল। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি বাকি সদস্যরা। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাদের অপসারণের দাবি করেছেন ১৫ জন সদস্য। তৃণমূল সদস্য কল্পনা দাস বলেন যে, প্রধান অসিত মাহাতো পঞ্চায়েতে নিয়মিত আসেন না। এমনকি পঞ্চায়েতের সদস্যদের নিয়ে ডাকা নীতিনির্ধারণ সভাতেও উপস্থিত থাকেন না। এতে পঞ্চায়েতের কাজ চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সিপিএম-এর লক্ষ্মীকান্ত মাঝি জানান যে, প্রধান পঞ্চায়েতে নিয়মিত আসেন না। ছাত্র- ছাত্রী সহ সাধারণ মানুষ বিভিন্ন শংসাপত্র সহ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে ক্ষোভ বাড়ছে।

আদিবাসী কুরমি সমাজের বাপী হালদার জানান, প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, স্বজন পোষন ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।তাই এই দু’জনকে আর ক্ষমতায় রাখা যায় না। খাতড়া বিডিও অফিসে তাদের অপসারণ করা এবং নতুন প্রধান ও উপপ্রধগান নির্বাচন করা দরকার।

অন্যদিকে প্রধান অসিত কুমার মাহাতো জানান যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কোনটাই ঠিক নয়। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তৃনমূলের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি।

অন্যদিকে বিজেপি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, একেই বলে যেমন কর্ম তেমনি ফল। তারা বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে স্থানীয় মানুষের রায়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ক্ষমতার লোভে তৃণমূলে যোগ দেন।

খাতড়া ব্লক প্রশাসনের বক্তব্য, প্রধান ও উপপ্রধানকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *