স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১ অক্টোবর: নদিয়া জেলায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সরকারের তরফে জমি অধিগ্রহণ করার পর বহুদিন কেটে গেলেও এখনও শেষ হয়নি কাজ।
কোনও কোনও জায়গায় এখনও কাজ বাকি থাকায় খানাখন্দে ভরা রয়েছে রাস্তা। তাই আজ চাষিরা ওই সরকারি অধিগৃহীত জমিতে নতুন করে শুরু করলেন চাষবাস।

কাজ শুরু হয়েছে বহু দিন ধরে। দীর্ঘ একবছর আগে ৩৪ নং জাতীয় সড়ক অর্থাৎ বর্তমানে যা ১২ নং জাতীয় সড়ক সেই জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছিল। বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু হলেও এখনও কিছু কিছু জায়গায় সেরকমভাবে কাজ শুরু হয়নি। এমনই চিত্র ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়। নদিয়ার হবিবপুর এলাকায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরই কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সেই রাস্তায় অনেকদিন ধরে কাজ না হওয়ার কারণে রাস্তায় জল জমেছে। স্বভাবতই হবিবপুর অঞ্চলের কিছু মানুষ সেই জমা জলকেই কাজে লাগালো। তারা রাস্তার ধারে সরকারি অধিগৃহীত জমিতে ধান গাছ এবং পানিফলের চাষ করলেন। না, বিক্রির উদ্দেশ্যে নয় বরং নিজেদের খাওয়ার জন্য। যেহেতু রাস্তার পাশে জমি রয়েছে, আর সেখানে জল জমে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে এবং তার সাথে অকাল বর্ষণের ফলে ওই অঞ্চলে রয়েছে পর্যপ্ত পরিমাণে জল। আর সেই জলকে তারা কাজে লাগালো এবং তার সাথে সাথে তারা সেখানে ধান ও সেইসঙ্গে চাষ করলেন পানিফল। স্বভাবতই এই চাষের পরে তাদের মনে অনেকটাই শান্তি। তার কারণ, তাদের সেই জমিতে ফসল ফলেছে। তারা জানাচ্ছেন যে লকডাউনের মধ্যে আয় একদমই নেই। সুতরাং এই চাষের মাধ্যমে যদি কিছু আয় হয় তাহলে খুবই ভালো হয় এবং সংসারও চলে।

স্বভাবতই দু-তিনটি পরিবার থেকে শুরু করে প্রায় আড়াইশোটি পরিবার এখানে দুঃস্থ এবং অসহায়। সে কারণেই এলাকার মানুষ রাস্তার ধারে অভিনব ভাবে চাষ করে তাক লাগিয়েছেন। তবে তাদের একটাই কথা, যতদিন না রাস্তা হচ্ছে ততদিন তারা এই কাজ চালিয়ে যাবেন। রাস্তা যখন শুরু হয়ে যাবে তখন তো আর চাষ করতে পারবেন না। তাই অকালে এইরকম ভাবে চাষ করে তারা নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

