আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৫ ডিসেম্বর: এখনো উধাও হয়নি করোনা। তবুও করোনার আতঙ্ককে উপেক্ষা করেই মানুষের ঢল দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর ও শঙ্করপুরের সমুদ্র সৈকতে। জেলার অন্যান্য নতুন পর্যটন কেন্দ্রগুলি বাঁকিপুট, বগুড়ান জলপাই ও হরিপুরের মত জায়গাগুলিতে পিকনিক পার্টি ছিল প্রচুর। সবকিছু ভুলে উদ্দাম আনন্দে মেতেছেন মানুষ।
প্রত্যেক বছরই দিঘাতে বড়দিনে সবথেকে বেশি সংখ্যক লোক সমগম হয়। আজ থেকে পয়লা জানুয়ারি পর্যন্ত দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা থাকে ভালোই। কিন্তু এ বছর গত মার্চ মাস থেকে লকডাউনের কারণে দিঘার সৈকত শহর ছিল একদমই ফাঁকা। লকডাউন ওঠার পর থেকে কিছু কিছু করে মানুষ দিঘায় বেড়াতে এলেও আজ দিঘায় পর্যটকদের সংখ্যা ছিল এ বছরের মধ্যে সবথেকে বেশি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় আজ পর্যটক সংখ্যা কিছুটা কম হলেও তা ছিল প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি। আজই এবছরের মধ্যে প্রথম সবথেকে বেশি মানুষ দিঘা এসেছেন।

আজ থেকে আবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি ঢেউ সাগর পার্কের দরজা খুলে দেওয়া হল পর্যটকদের জন্য। ফলে আরও একটা দেখার জায়গা বাড়ল পর্যটকদের। টয়ট্রেন, দোলনা ও অন্যান্য খেলার জিনিষের পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে সমুদ্র ছাড়াও অন্যান্য দর্শনীয় জায়গার সাথে বাড়তি একটা দেখার স্থান ও বাড়তি পাওনা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন আজ থেকে পর্যটকরা।
দীঘায় আজকে আসা পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই হয়ত পিকনিক করে ফিরে গিয়েছেন বা এখনও বেশ কিছু ফিরে যাবেন আজই। কিন্তু অনেকেই এসেছেন যারা দীঘায় দু-এক দিন কাটিয়ে তারপরে ফিরবেন। আগামী ১ বা ২ জানুয়ারি পর্যন্ত দীঘায় পর্যটকদের সংখ্যা ভালোই থাকবে বলে ধারণা দীঘার প্রশাসন থেকে হোটেল মালিকদের।

দীর্ঘ লকডাউন এবং করোনা আবহাওয়ায় এবছর পর্যটকের সংখ্যা এবছর দিঘায় খুবই কম ছিল। ফলে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হোটেলমালিক থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। সেই খরা কাটিয়ে দিঘায় পর্যটকের ঢল নামায় কিছুটা হলেও খুশি ব্যবসায়ী মহল।


