আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৪ মার্চ: হিন্দিভাষী সম্মেলনে রামপুরহাটের তৃণমূল প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিতর্কে জড়াল কাপড় ব্যবসায়ী সমিতি। এনিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যদিও সংগঠনের দাবি, তৃণমূল ডেকেছিল তাই ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। রবিবার রামপুরহাটে পুরসভার অনুষ্ঠান ভবনে হিন্দিভাষীদের নিয়ে সম্মেলন করে তৃণমূল। উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপুরহাট কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল বাঠিয়া, রামপুরহাট পুরসভার প্রশাসক অশ্বিনী তেওয়ারি সহ অনেকে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হিন্দিভাষীদের প্রতিনিধিরা তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। সুশীল বাঠিয়া বলেন, “এই সরকারের আমলে ব্যবসায়ীরা অনেক উপকার পেয়েছি। লকডাউনে আশিসবাবু আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাই তাঁকেই পুনরায় জিতিয়ে আনতে হবে। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সুশীলবাবু বলেন, “তৃণমূল হিন্দিভাষীদের ডেকেছিল। তাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে বলেছি। বিজেপি হিন্দিভাষী সম্মেলন ডাকলে তাদের সভাতেও যাব। কারণ আমাদের সংগঠন কোনও দলের দ্বারা প্রভাবিত নয়”।
সংগঠনের সম্পাদক মহম্মদ সরিফউদ্দিন বলেন, “আমাদের সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। সংগঠনের নাম নিয়ে কোনও দলকে সমর্থন করার কথা নয়। হিন্দিভাষী সম্মেলনে সুশীলবাবু কি বলেছেন জানি না। কলকাতায় রয়েছি। ফিরে গিয়ে এনিয়ে কথা বলব”।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দিভাষীদের নিয়ে সম্মেলন করা হল। মুখ্যমন্ত্রী যে সবার উন্নয়ন করেছেন সেই বার্তা দেওয়া হল”। এদিকে হিন্দিভাষীদের নিয়ে দলনেত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বেশ কিছু হিন্দিভাষী মানুষ সম্মেলনে যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হিন্দিভাষী বলেন, “কিছু দিন আগে উত্তর ২৪ পরগনায় জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়ায় হিন্দিভাষীদের বহিরাগত বলেছিলেন। দিন কয়েক আগে রাজস্থানি গুন্ডারা রাজ্যে আসছেন বলেছিলেন। এরপর আবার হিন্দিভাষীদের সম্মেলনের কোনও মানে হয় না”। যদিও আশিসবাবু বলেন, “দলনেত্রী ওই মন্তব্য সমস্ত হিন্দিভাষীদের বলেননি। যারা মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে উত্তেজিত করেছিলেন তাদের বলেছিলেন। এখানে সব ভাষাভাষী এক সঙ্গে বসবাস করে”।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী বলেন, “দশ বছর পর হিন্দিভাষীদের মনে পড়ল। এর আগে তাদের বহিরাগত তকমা দিয়েছিলেন। কখনও গুন্ডা বলেছেন। সম্মেলন করে তাদের মন থেকে সেই তকমা মুছে ফেলা যাবে না। ভোট বাক্সে তারা জবাব দেবেন নিশ্চিত”।


