রাজেন রায়, কলকাতা, ৮ এপ্রিল: কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে গোয়েন্দাদের হাতে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার আদালতে সেই সমস্ত তথ্য পেশ করল ইডি। আর তাতেই সামনে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। চতুর্থ দফা ভোটের আগে যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
তথ্যে জানানো হয়েছে, কীভাবে পুলিশ আধিকারিকের কাছে কোটি কোটি টাকা যেত। দিল্লি আদালতে এই সংক্রান্ত নথিও জমা দিয়েছেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা। তারা জানিয়েছেন, গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর ১৬৮ কোটি টাকা অনুপ মাঝি দিয়েছেন বাঁকুড়ার আইসি অশোক মিশ্রকে। আর এভাবেই দু’বছরে ১৩৫২ কোটি টাকা পাচার করেছেন আইসি অশোক মিশ্র।
বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে তদন্তে উঠে আসা তথ্য পেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। তথ্যে জানানো হয়েছে বাঁকুড়ার আইসি অশোক মিশ্রের অ্যাকাউন্টে খুব কম সময়ের ব্যবধানে কয়লা পাচারের এক বিরাট অঙ্কের টাকা জমা পড়েছিল। সেই তদন্তের স্বার্থে বেশ কয়েকবার জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। কয়লাকাণ্ডে এই প্রথম কোনও পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার করল ইডি। সেই সময় জেরায় ও নথি ঘেঁটে টাকার পরিমাণের তথ্য পেয়েছিলেন ইডি-র গোয়েন্দারা। তদন্তে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচারের মোটা অঙ্কের টাকা অশোক মিশ্রই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হাতে তুলে দিতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে জেরা করা হয়। পাওয়া গিয়েছিল সেই আর্থিক লেনদেনের রসিদও। অশোক মিশ্র নিজে সেই রশিদে সই করে ওই টাকা নিতেন। আদালতে সেই সমস্ত রশিদ প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছে ইডি। গোয়েন্দাদের দাবি, এই টাকা আদতে প্রোটেকশন মানির টাকা।
প্রসঙ্গত, তদন্ত চলাকালীন চলতি বছরের ১৮ মার্চ কয়লা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার এক সহযোগীর গোপন জবানবন্দি নেন গোয়েন্দারা। সেই জেরায় তাঁর সহযোগী জানিয়েছিলেন, অশোক মিশ্রের কাছে আসা টাকার এক বড় অংশ দিল্লিতে পাঠানো হত তৃণমূলের যুব নেতা বিনয় মিশ্রের কাছে। সেখান থেকেই টাকা জমা পড়ত থাইল্যান্ড ও লন্ডনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই সুত্র ধরেই গোয়েন্দারা থাইল্যান্ডের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ থাকার তথ্য পেয়েছেন। অন্যদিকে লন্ডনের অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে সংযোগ পাওয়া গিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকার। কয়লাকাণ্ডের তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসছে।

