দেড় বছর কৃষি আইন লাগু হবে না সমস্যা সমাধানে পথ খোলা রেখে প্রস্তাব সরকারের, বিবেচনায় কৃষকরা

আমাদের ভারত, ২১ জানুয়ারি:সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারে রাজি না হলেও আগামী দেড় বছর এই বিতর্কিত তিন কৃষি আইন কার্যকর হবেন না বলে আন্দোলনকারী কৃষকদের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এভাবেই এক পা পিছু হটে সমস্যা সমাধানের রাস্তা খোলা রাখতে চাইলেও কেন্দ্র। দশম বৈঠকে সরকার জানিয়ে দিল আলোচনার মাধ্যমে কৃষি আইন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে চায় সরকার। আর সেই জন্যই প্রয়োজনে আগামী দেড় বছর কৃষি আইন লাগু করবেন না সরকার। এবার কৃষকরা চিন্তা ভাবনা করুন। যদিও সরকারের এই প্রস্তাবে সঙ্গে সঙ্গে কোনো রকম সায় দেয়নি কৃষক নেতৃত্ব। তারা একদিন সময় চেয়েছেন। এবিষয়ে ২২ জানুয়ারি তারা তাদের মতামত সরকারকে।

বৈঠকের পর এ কৃষক নেতা বালকিসান সিং ব্রার বলেন, দশম দফায় বৈঠকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির পর্যালোচনা চলাকালীন দেড় বছর পর্যন্ত তিনটি কৃষি আইন মুলতবি রাখা হতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্যানেলের দু’মাসের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত তিনটি আইন পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করার কথা।

অল ইন্ডিয়া কিষান সভা সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেন, ‘সরকার জানিয়েছে প্রয়োজনে দেড় বছর নয়া কৃষি আইন লাগু হবে না। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের হলফনামাও দিতে তারা প্রস্তুত। এছাড়া ফসলের সহায়ক মূল্য দেওয়া নিয়ে সমস্যা মেটাতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি কৃষি আইন নিয়েও মতামত দেবে। তাদের সুপারিশ মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

কৃষক সংগঠনগুলির জানিয়েছে কেন্দ্রের নয়া প্রস্তাব সম্পর্কে পর্যালোচনা করে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। একইসঙ্গে তাদের দাবি আগামী ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লিতে ট্রাক্টর মিছিল নিয়েও কেন্দ্র নরম মনোভাব দেখিয়েছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ট্রাক্টর মিছিল সংক্রান্ত মামলা প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট জানিয়ে দেয় এই বিষয়ে পুলিশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনটি বিতর্কিত আইনে কিছু সংশোধন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনের নেতারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে জানিয়ে দেন তিনটি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দশম পর্যায়ের বৈঠকের পর কৃষক নেতৃত্তের মনোভাব ইতিবাচক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *