অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১ মে: বিশ্বের প্রতিটি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতি। যে সংস্কৃতি অন্য একটি নদী কেন্দ্রিক সংস্কৃতি থেকে আলাদা এবং স্বতন্ত্র। সেরকমই সুবর্ণরেখা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে তার নিজস্ব সংস্কৃতি। আর সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকার সেই সংস্কৃতি ‘সুবর্ণরৈখিক সংস্কৃতি’ নামে পরিচিত। নদীটি ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা রাজ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও প্রতিটি রাজ্যের আলাদা প্রাদেশিক সংস্কৃতি বাদে কোথায় যেন মিল রয়েছে সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের ভাষা এবং সংস্কৃতির মধ্যে।তাই সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী সুবর্ণরৈখিক ভাষা এবং সংস্কৃতিকে উজ্জিবিত করার লক্ষ্যে গোপীবল্লভপুর এলাকার বেশ কয়েকজন উৎসাহি যুবকের প্রচেষ্টায় এক বছর আগে আজকের দিনে ২০২০ সালের ১ মে গড়ে উঠেছে একটি ফেসবুক গ্রুপ। যা সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক ‘আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব’ নামে পরিচিত। সেই ফেসবুক গ্রুপের আজ ২০২১ সালের ১ মে হল বর্ষপূর্তি। তাই গ্রুপের পক্ষ থেকে এদিন সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক গ্রুপের জন্মদিন পালিত হল। করোনা মহামারির কারণে উদ্যোক্তারা এবছর বড় ধরনের কোনও আয়োজন করতে পারেনি। তবে সকাল থেকে শ্রমিক দিবস পালনের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষদের উপহার বিতরণ, সুবর্ণরেখা নদীর মহাপাল ঘাট দিয়ে পারাপার করতে আসা সাধারণ মানুষকে মাস্ক বিতরণে এবং করোনা সচেতন করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার উদ্দেশ্যে গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের জাহানপুর গ্রামের মুসলিম সমাজের ৩০ জনকে নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপের এডমিন বিশ্বজিৎ পাল, সৌকত আলি শা প্রমুখ।

কর্মসূচি সম্পর্কে সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক গ্রুপের এডমিন বিশ্বজিৎ পাল বলেন, গ্রুপের লক্ষ্য হল সুবর্ণরেখা তীরবর্তী ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। কিন্তু এছাড়াও এই এক বছরে রক্তদান, ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য পুস্তক দানের মতো সামাজিক কাজকর্ম করা হয়েছে।

