আমাদের ভারত, ৭ জুলাই: বাজার থেকে ফেরার পথে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও দুই কর্মীকে গুলি করে গলার নলি কেটে খুন করে চম্পট দিল দষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার সাত সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানা বাজার এলাকার গোপালপুরে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের নাম, পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝি ও তাঁর সঙ্গী ভূতনাথ প্রামানিক ও ঝন্টু হালদার।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন একটি বাইক চেপে পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাঝি তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে বাজার এলাকার গোপালপুর থেকে ২১-শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাইক আটকে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্বপন সহ তাঁর দুই সঙ্গী। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি আক্রমণকারীরা। এরপর স্বপনের গলার নলি কেটে দেয়। ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয় স্বপন মাঝির। দুষ্কৃতীরা পালানোর সময় স্বপনের সঙ্গী ভূতনাথ প্রামানিক ও ঝন্টু হালদারকে গুলি করে ঝাঁজরা করে দেয়।
খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে চারটি বোমা ও ৩টি গুলির খোল উদ্ধার করে বলে জানা যায়। ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে স্বপন মাঝি কয়েকদিন আগেই আমার কাছে আশঙ্কাপ্রকাশ করেছিল। আমি দিল্লি গিয়েছিলাম, আজ বৃহস্পতিবার আমার অফিসে আসতে বলেছিলাম। আজই তাঁকে নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে যাওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু আজকেই এই ঘটনা ঘটে গেল। খুনের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ গোটা ঘটনাটির তদন্ত করছে।
রাজ্যজুড়ে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে গুলি করে খুনের ঘটনা। কোথা থেকে এত অস্ত্র আসছে এই রাজ্যে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিরোধী মহলে। কিছুদিন আগেই নরেন্দ্রপুর, ভাটপাড়া, জগদ্দলেও গুলি করে খুনের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে খুন করা হয় ১৯ বছরের এক তরুণকে। শনিবারই ভাটপাড়ায় গুলি করে খুন করা হয় এক ইমারতি ব্যবসায়ীকে।

