শিক্ষিকাদের বদলির নির্দেশ অনৈতিক, স্থগিতাদেশ ঘোষণা হাইকোর্টের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর: কিছুদিন আগেই বিকাশ ভবনের সামনে বিষপান করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন ৫ শিক্ষিকা। হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সুস্থ হয়ে গেলেও তারা সুবিচারের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, অনৈতিকভাবে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বদলি করা হয়েছে। শিক্ষকদের বদলির নির্দেশে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্যকে।

মুর্শিদাবাদের ভোকেশনাল শিক্ষিকা অনিমা নাথ এই মামলাটি করেছেন। তাঁকে হুগলির বলাগড় থেকে কয়েক’শ কিলোমিটার দূরে মালদায় বদলি করা হয়েছিল। সেই বদলির নির্দেশ বাতিল করতে চেয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তিনি। মামলাটির শুনানি চলাকালীন মঙ্গলবারই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে এই বদলির নির্দেশ জারি করল রাজ্য? কোন ক্ষমতাবলে এই নির্দেশ? এমন প্রশ্নও তোলা হয়। বুধবারই এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্যকে। গতকালের পর আজ ছিল এই মামলার শুনানি। দুপুর সাড়ে ১২ মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল রাজ্যকে। কিন্তু রাজ্যকে সোমবার মধ্যে সময় চাওয়ায় আর সময় দিতে রাজি হয়নি আদালত।

অস্থায়ী শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনও আইন নেই বদলির, আজ আদালতে সেটা স্বীকার করেছে রাজ্য। যদিও অন্যত্র স্থানান্তরিত (রিলোকেট) করা যায় বলে রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে। যদিও আদালত মনে করছে যেহেতু অস্থায়ী শিক্ষকদের ট্রান্সফার পলিসি নেই, রাজ্য সরকারের বদলির সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্যকে।
হাজার দশেক টাকা বেতন পান এই চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকারা। এই বেতনে যদি কয়েকশো কিলোমিটার দূরে উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়া হয়, তবে সংসার চলবে কী ভাবে। এই প্রশ্ন তুলেছিলেন শিক্ষিকারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *