উত্তর দিনাজপুরে বুর্জ খলিফার আদলে মণ্ডপ

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ৫ সেপ্টেম্বর: করোনা অতিমারির মধ্যেই গত বছর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার উদ্যোগ নিয়েছিল কলকাতার লেকটাউনের শ্রীভুমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ দুবাইয়ের বিখ্যাত বুর্জ খলিফার আদলে চোখ ধাঁধানো মণ্ডপ গড়ে সকলকে চমক দিতে চেয়েছিল এই পুজো কমিটি। যার উদ্যোক্তা ছিলেন খোদ দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। কিন্তু শ্রীভূমি ক্লাবের পুজো দেখতে গিয়ে শেষমেশ কী অবস্থা হয়েছিল তা কারোই অজানা নয়।

বলা যেতে পারে এই পুজোকে ঘিরে এক আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল উৎসবপ্রিয় বাঙালির মধ্যে। কারণ যে বুর্জ খলিফা দেখতে দুবাই যেতে হয় তা যদি নিজের শহরেই দেখা যায় তাহলে তো কথাই নেই। আর সেই আশঙ্কাকে কে সত্যি করে শ্রীভূমির পুজো দেখতে মণ্ডপ চত্বরে জনপ্লাবনের চেহারা নেয়। তার ওপর মণ্ডপের গায়ে লাগানো লেজার লাইট শো দেখতে ভিড় উপচে পড়ে৷ ফলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় পুজোকে কেন্দ্র করে। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে অবশেষে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এই পুজো মণ্ডপে। এমনকি মহাষ্টমীর শেষে মধ্যরাতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেই এ কথা ঘোষণা করেছিলেন পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সুজিত বসু। এবার সেই বুর্জ খলিফার আদলে মণ্ডপ গড়ে তাক লাগাতে চাইছে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘী ব্লক সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। এবারে নবম তম বর্ষে এই নজরকাড়া মণ্ডপ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিধায়ক গৌতম পাল।

এছাড়া, উত্তর দিনাজপুর জেলার রূপাহারের রূপাহার যুব সংঘ–ও বুর্জ খলিফার আদলে নিজেদের পুজো মণ্ডপ সাজাতে চলেছে। দুবাইয়ে একটি মাত্র ‘বুর্জ খলিফা’ থাকলেও এবছর জেলায় দু-দুইটি বুর্জ খলিফার আদলে পূজা মন্ডপ তৈরি হচ্ছে জেনে সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছে যে কোন পূজা মন্ডপটি সেরা হবে।

করণদীঘির বিধায়ক তথা পুজোর মূল পৃষ্ঠপোষক গৌতম পাল জানিয়েছেন, “ধর্ম যার যার সবার” এই থিমকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতেই ১৪৫ ফিট উচ্চতার বুর্জ খলিফার মণ্ডপ গড়া হবে। কলকাতা, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জের শিল্পীদের মণ্ডপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ ডাকের সাজের ৩০ ফুটের প্রতিমা তৈরি করছেন মালদার জেলার চাঁচলের মৃৎশিল্পী। আলোকসজ্জা থাকছে চন্দননগরের।

তৃতীয়ার দিন পুজোর মণ্ডপের ফিতে কাটবেন রিয়ালিটি শোর ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত শিল্পী অরুনিতা কাঞ্জিলাল। এছাড়া পুজো উপলক্ষে গাছ বিতরণ, বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান সহ একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে পুজো উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *