চন্দ্রকোনায় সিপিএম প্রার্থীর বাড়ির সামনে বোমা, হুমকি চিঠি, আতঙ্কে এলাকার মানুষ

কুমারেশ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ জুন:
আচমকায় গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বোমা ফাটার আওয়াজ। সেই আওয়াজ শুনে বাইরে বেরিয়ে এসে এলাকাবাসী দেখে হুমকি চিঠি ফেলে পালিয়ে গেছে দুষ্কৃতিরা। চিঠিতে প্রাণে মেরা ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। যাকে ঘিরে তীব্র শোরগোল, আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন, রাতেই ঘটনাস্থলে যায় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ।

সিপিএম প্রার্থীর বাপের বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে হুমকি চিঠি ও বোমা ফাটানোর ঘটনায় আতঙ্ক এলাকার মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের কুঁয়াপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাবল্লভপুর সংসদে সিপিআইএমের প্রার্থী হয়েছেন পম্পা দাস। পম্পা দাস কর্মসুত্রে চন্দ্রকোনা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুরে বাপের বাড়িতে থাকেন। বুধবার রাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পম্পার বাপের বাড়িতে বোমা ফাটানো, তারপরে পাওয়া যায় হুমকি চিঠি। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ।

পম্পার দাবি, সিপিএমের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ানোর জন্যই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। হুমকি চিঠির ঘটনায় আতঙ্কিত প্রার্থী সহ পরিবারের সদস্যরা। চিঠিতে প্রার্থীর মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, “চাই না, তোমার মেয়েকে সাবধান করে দাও, যে জায়গাটায় গেছে, এই জায়গা থেকে সরে আসতে বল কালকের মধ্যে। ভবিষ্যতে তোমার ভীষণ ক্ষতি হতে পারে। তোমার নাতি ও মেয়ের কোনও ক্ষতি হোক আমরা চাই না, তোমাদের চারজনের মধ্যে একজনের জীবন হারাক। যে ব্যবসা করে খাচ্ছ তেমন ব্যবসা করে খাও, সুখে থাকবে। যে রাস্তায় গেছে ওই রাস্তা থেকে ঘুরে আসতে বল নইলে আমাদের থেকে কেউ খারাপ হবে না।”

যদিও সাদা কাগজে লেখা এই হুমকিতে কোনও নাম বা কাদের তরফে এই চিঠি, সেই সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই। ঘটনায় আতঙ্কিত প্রতিবেশীরাও। তারাও চাইছে এমন ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে তার জন্য পুলিশ ব্যবস্থা নিক।

এই ঘটনায় শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সিপিআইএমের নেতৃত্ব। তাদের দাবি রাতের অন্ধকারে বোমা ফাটানো হয়েছিল এমনকি চন্দ্রকোনায় বোমা মজুদ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা।

পুরো ঘটনায় শাসকদল তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও শাসকদলের তরফে ঘটনা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ বলে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি এখনও, তবে সিপিএমের তরফে অভিযোগ জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে। ঘটনার মধ্যে শুধুই রাজনৈতিক ইন্ধন নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *