প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৮ জুলাই: আবারও বোমাবাজি ও বন্ধ গাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল জগদ্দল ও ভাটপাড়া এলাকায়। বুধবার সকালে বন্ধ জাইলো গাড়ির মধ্যে বোমা থাকাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ভাটপাড়া পৌর এলকার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ভাটপাড়া থানার অন্তর্গত স্থির পাড়ার বুড়ি বটতলা এলাকায় জনবহুল বাজারের মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে পড়েছিল ওই গাড়িটি।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে ভাটপাড়া থানার পুলিশ গাড়িটিকে পাহারা দিয়ে রাখে। এই ঘটনা চাউর হতেই বুড়িবটতলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাড়িটি একটি বাজারে মধ্যে দাঁড় করানো থাকায় বাজারে আসা মানুষজনও ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে যান। গাড়িটির কাছে কেউ যাতে যেতে না পারে তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয় গাড়িটি।
গাড়ির ভেতরে ঠিক কটি বোমা ছিল তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছিল না পুলিশ প্রশাসন। তবে
বোমাগুলি উদ্ধার করার জন্য ডেকে পাঠানো হয় বোম স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞদের। এরপর বোম স্কোয়াডের একটি দল আসে। তারা গাড়িটি খুলে তার মধ্যে থেকে ৩টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। সেই তাজা বোমাগুলিকে উদ্ধার করে সেগুলি নষ্ট করে দেন তারা। তবে নির্বাচনের পর থেকে ভাটপাড়া ও জগদ্দল এলাকায় বোমাবাজি ও দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনা যে শুরু হয়েছে তা কিছুতেই নিয়ন্ত্রনে আসছে না। বন্ধ গাড়িতে বোমা উদ্ধার করার ঘটনার ব্যাপক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ওই গাড়ির মধ্যে তিন চারটি বোমা রেখে গাড়িটি লক করে চলে গেছে। এই ধরনের ঘটনায় যদি বোমাগুলি ফেটে যেত তাহলে খুব বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত।” ওপর দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে জগদ্দলে নেতাজী পল্লি এলাকায় একটি মুদি দোকান লক্ষ্য করে বোমাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ, গত পরশু গভীর রাতে স্থানীয় এক যুবক যুবতী ওই দোকানের সামনে অশ্লীল কর্মে লিপ্ত ছিল। এরই প্রতিবাদ করে ওই দোকানের মালিক। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই তারা ঐ ব্যবসায়ীকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল, ওই ব্যবসায়ী সেই যুবক যুবতীর পরিবারের সাথে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, এরপরেও তারা সমানে হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ। বুধবার দুপুরে ওই ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে এলাকার দুষ্কৃতীদের এনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটানো হয়। দিনের বেলা বোমার শব্দে ব্যপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। দিনের বেলায় এই বোমাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে জগদ্দল থানার পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “সম্প্রতি একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ওই দোকানের সামনে বসে নেশা করছিল ও খারাপ কাজ করছিল। সেই সময় ওই দোকানের মালিক তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বললে তারা দুষ্কৃতী এনে বোমা মারার হুমকি দেয়। আর আজ দিনের বেলায় দুষ্কৃতীরা এই ধরনের কাজ করে গেল। আমরা আতঙ্কিত হয়ে গেছি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত দুষ্কৃতীদের ধরা।” এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জগদ্দল থানার পুলিশ।

