জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১০ অক্টোবর: রবিবার কেশপুর ব্লকের ঝেঁতলা ঐক্য সম্মিলনী আয়োজিত শারদোৎসবের পঞ্চমী তিথিতে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রক্তদান শিবিরে ৪ জন মহিলা সহ মোট ৫৫ জন রক্তদান করেন। শিবিরে প্রথম বারের জন্য রক্ত দিয়েছেন ৯ জন। রক্তদান শিবিরের সার্বিক আয়োজনে ছিল ঝেঁতলা রবীন্দ্র-নজরুল স্মৃতি সংঘ।
শিবিরের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য পঙ্কজ পাত্র। উপস্থিত ছিলেন ঝেঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সবিতা সামন্ত, কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি পানমণি হেমরম, ঝেঁতলা শশীভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ প্রসাদ চৌধুরী, মেদিনীপুর জেলা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সম্পাদক জয়ন্ত মুখার্জি, বিশিষ্ট সমাজসেবী ভাস্কর চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ও এ্যন্টি কোরাপশন ব্যুরোর সহ সভাপতি শিবু রাণা, সংগঠনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আহ্বায়ক উজ্জ্বল মাইতি, কেশপুর ব্লকের আহ্বায়ক বিকাশ দে, শিক্ষক তথা সমাজসেবী রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম কর্মী চঞ্চল হাজরা, সমাজসেবী রুহুল আমিন, সেখ জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় ডাক্তার সুপ্রকাশ দাস, সহ বিশিষ্ট জনেরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঝেঁতলা রবীন্দ্র নজরুল স্মৃতি সংঘের সভাপতি তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী করুণা সিন্ধু দণ্ডপাট। রক্তদান মঞ্চ উদ্বোধন করেন ঝেঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সবিতা সামন্ত। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে শিশু শিল্পী অঙ্কিতা চৌধুরী।
প্রধান অতিথি তথা ঝেঁতলা শশীভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ প্রসাদ চৌধুরী এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মননশীলতার যে বাতাবরণ রয়েছে পরম্পরা মেনে তা বজায় রাখার আবেদন জানান। সবুজায়নের বার্তা দিতে রক্তদাতাদের ও অতিথিদের ফুলের গাছ উপহার দেওয়া হয়।
রবীন্দ্র-নজরুল স্মৃতি সংঘের সম্পাদক শ্যামসুন্দর বেরা বলেন, সংঘ বর্ষব্যাপী বিবিধ সামাজিক কর্মসূচি পালন করবে। তার অঙ্গ হিসেবে ঐক্য সম্মলনী পরিচালিত রক্তদান কর্মসূচিতে আমরা রক্ত দেবার পাশাপাশি শিবিরটি সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে সচেষ্ট ছিলাম। আমরা খুশি এমন মহতি উদ্যোগের পাশে থাকতে পেরে।”
আগত মানবাধিকার কমিশনের পদাধিকারীগণ রক্তদান শিবির মঞ্চ থেকে ঝেঁতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক মা-বোনেদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেন। এই মহতি আয়োজনের অন্যতম মুখ ছিলেন মেদিনীপুর জেলা ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের সম্পাদক জয়ন্ত মুখার্জি। তিনি ১৪৯ বার রক্তদানের যে রেকর্ড করেছেন তা নবীন প্রজন্মের কাছে একটি দৃষ্টান্ত। শিবিরে রক্ত সংগ্রহ করেন খড়্গপুর ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

