জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৯ মার্চ: জল্পনার অবসান। অবশেষে গলসী আসনে প্রার্থী বদল করল বিজেপি। সোমবার নতুন করে নাম ঘোষনা করল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন প্রার্থী পেশায় শিক্ষক বিকাশ বিশ্বাস। নাম ঘোষনা হতে বিজেপিকর্মী ও বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের প্রবল উচ্ছ্বাস।
প্রসঙ্গত, গলসী আসনে প্রথমে তপন বাগদী নামে এক বিজেপি কর্মীর নাম ঘোষনা করেছিল। তপন বাগদী প্রচারও শুরু করেছিলেন। কয়েকদিন আগে তপন বাগদীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগের পোস্টার পড়ে এলাকায়। তাতে চরম অস্বস্তুিতে পড়ে বিজেপি। খবর চাউর হতেই তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল করে। সোমবার নতুন নাম ঘোষনা করে বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন তালিকায় গলসীতে তপশীলি সংরক্ষিত আসনে শিক্ষক বিকাশ বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। বিকাশবাবু ছাত্রজীবনের শুরুটা কেটেছে গলসী বিধানসভার কাঁকসাতে। সেনাছাউনীতে তাঁর জামাইবাবু চাকরী করতেন। সেখানে থেকে পানাগড় বাজার জুনিয়ার হাইস্কুলে পড়াশোনা। বিকাশবাবুর ভোটার কার্ড এখন কাঁকসার গৌরতলার ঠিকানায় রয়েছে।
যদিও তিনি বর্তমানে থাকেন দুর্গাপুর গুরুনানক অ্যাভিনিউয়ে। পরবর্তীকালে কলকাতা হেয়ারস্কুলে থেকে উচ্চমাধ্যমিক দেন। সেখান থেকে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ইতিহাসে স্নাতক পাশ করেন এবং রবীন্দ্রভারতী থেকে এমএ পাশ করেন। ২০০১ সালে গুসকরা পিপি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু। সেখান থেকে ২০০৩ সালে কাঁকসার অযোধ্যা হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৪ সালে বিজেপির টিচার্স সেলে যোগ দেন এবং তখন থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি। ২০১৬ সালে সংগঠনের আসানসোল জেলার আহ্বায়ক করা হয় তাকে।
২০১৮ সালে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদে কাঁকসার ১ জেডপি থেকে বিজেপির প্রার্থী হন। ওই সময় তার তার ওপর স্কুলে হামলাও হয়। অভিযোগ, বিজেপির প্রার্থী হওয়া তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা তাঁকে নির্মম মারধর করে। কিন্তু তাতেও দমে থাকেনি। শিক্ষকদের প্রতি রাজ্য সরকারের দমনপীড়ন নীতির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন এবং লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন।
সোমবার নাম ঘোষনা হতেই বিজেপির টিচার্স সেলের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস শুরু হয়। তেমনই গলসী বিধানসভা এলাকায় বিজেপিকর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস দেখা দেয়। এদিন বিকাশবাবু বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনওভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। তারপর প্রচারে বাধা দেয় তৃণমূল। এমনকি ক্রমাগত হুমকিতে বাড়িছাড়া ছিলাম দু-মাস। তখন সাধারন মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি তৃণমূলের গুন্ডারা। এখন পরিবেশ বদলেছে। মার খেয়ে, লড়াই করে মনের মধ্যে দৃঢ়তা এসেছে, তৃণমূল নামক জগদ্দল পাথরটাকে রাজ্য থেকে সরাতে হবে। মানুষ আমার সঙ্গে আছে। মানুষের জন্য কাজ করব। জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।”

