সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৬ জানুয়ারি: রাজ্যে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে তৃণমূলের চাইতে পাঁচশো টাকা বেশি দেবে বিজেপি, বলে ঘোষণা করলেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, যে মুখে জয় শ্রীরাম বলি সেই মুখে বাংলাদেশের শ্লোগান বলবো না। আজ বাঁকুড়ার তালডাংরায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় তৃণমূলের সমালোচনা করেন। সেই সমালোচনায় যেমন বিদ্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনি সমালোচিত হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়, বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তারা শঙ্কর রায়, সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, স্হানীয় বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ থেকে স্থানীয় ব্লক সভাপতি।

বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়’কে কল্যাণ দা সম্বোধন করে তিনি বলেন, এখানের ভূমিপুত্র বর্তমানে শ্রীরামপুরের সাংসদ। আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, শান্তিপুরে সুকান্ত এলে তাকে উচিত শিক্ষা দেবেন, তো আমি সেখানে গিয়ে বাইক র্যালি করলাম, কিন্তু কল্যাণ দা’র দেখা পেলাম না, কল্যাণ দা’কে খুঁজতে খুঁজতে বাঁকুড়ার তালডাংরায় এলাম, এখানে তার বাড়ি, তাও দেখা পেলাম না। তিনি কবিতার সুরে বলেন, কল্যাণ কল্যাণ ডাক ছাড়ি, কল্যাণ গেছে কার বাড়ি। কল্যাণ গেছে মামাবাড়ি। তো কল্যাণবাবু জেনে রাখুন, মামবাড়িই আপনাকে যেতে হবে। সেদিন আর বেশি দেরী নেই।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এসআইআর করতে দেব না। তো দম আছে আটকে দেবার? রাজ্যজুড়ে
এসআইআর- এর কাজ চলছে। এর আগে বলেছিলেন, সিএএ হতে দেব না। এখন বলা হচ্ছে সাংসদ অভিনেতা দেবকে ডাকা হয়েছে শুনানিতে। ঘটনা হলো ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের ডাক পড়বে, দেবের নাম নেই, সেই সময় দেব মহারাষ্ট্রে ছিলেন, মুম্বাইয়ে মিঠুন দা’দের ওখানে ছিল।
অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন তার র্যাম্পে হাঁটার শখ হয়েছে। যেখানেই সভা করতে যাচ্ছেন সেখানেই মঞ্চে লম্বা র্যাম্প করা হচ্ছে, আর তিনি হাঁটছেন। এখন আবার নতুন স্টাইল হয়েছে, সভা করতে গিয়ে সেখানে সবাইকে চিরকুটে অভাব অভিযোগ সমস্যা জানাতে বলছেন, চিরকুট পড়েই তিনি নাকি সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে যারা আবাস যোজনায় বাড়ি পাননি, তারা যদি চিরকুট লিখে জানান, অভিষেকবাবু আপনি পারবেন তো সেই সব মানুষদের ঘর তৈরী করে দিতে? উচ্চ শিক্ষিত হয়ে যে সব শিক্ষকদের চাকরি চলে গেছে, সেই ছাব্বিশ হাজার শিক্ষকদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে? বাঁকুড়া জেলায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, সেই রাস্তা নির্মাণ করেন দিলীপ চ্যাটার্জি নামক এক ঠিকাদার, তা সেই রাস্তা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাফ, সেই রাস্তার টাকা নাকি গেছে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর কাছে। তো অরূপবাবু সত্তর কোটি টাকার রাস্তা খেয়ে ফেললেন, আপনার তো বঙ্গরত্ন সম্মান পাওয়ার কথা। তিনি আরোও বলেন, ওই ঠিকাদারের পুত্র বুম্বা নাকি সবসময় সাংসদের পিছনে পিছনে ল্যাজ নেড়ে ঘোরেন।

এদিন তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়ানো হবে। আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে যাচ্ছি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল যে টাকা দেবে, তার থেকে পাঁচশো টাকা বেশি দেবে বিজেপি সরকার। তিনি বলেন, তৃণমূল শুধু মহিলাদের জন্য টাকা দেয়, বিজেপি দেয় না তা কিন্তু নয়, এপ্রসঙ্গে তিনি ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের কন্যা সন্তানের জন্য ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প, অসমে অরুনোদয় প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন।
এদিন বিজেপির পরিবর্তন সভা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। সভার পূর্বে এদিন তালডাংরায় একটি পদযাত্রায় অংশ নেন সুকান্ত মজুমদার। সেই পদযাত্রায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার, বিধায়ক নিলাদ্রী দানা, বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ অংশ নেন।

