শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৪ মে: এতদিন রাজ্য রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণকারীরা বার বার বলতেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাবে কী করে? মমতার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো মুখ নেই বিরোধীদের কাছে। কিন্তু সেই সব দাবি খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল গেরুয়া ঝড়। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ না দিয়েও বিজেপি দখল করল বাংলা।
ভোট প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার বলতেন কাউকে দেখবেন না। সকলে আমাকে ভোট দিন। অর্থাৎ তৃণমূল মানে কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বক্তব্য বার বার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি তো সেই মতো তার জন্যেই উদার চিত্তে হাত উপুর করেছে। তবে এবার দিদির উল্টো দিকে মোদীকে ভরসা করল বাঙালি। কারণ ভোট প্রচারে এসে মোদীও বলছেন একবার আমাকে ভরসা করুন। যদিও মানুষ জানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু কখনোই মোদী হবেন না। তবু মমতার উল্টো দিকে মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতেই ভরসা রাখল মানুষ।
বাংলা তথা বাঙালি বার বার দেশকে পথ দেখায়। এবারের বিধানসভা ভোটেও সেটাই করে দেখালো বাঙালি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছাড়াই রাজ্যে পরিবর্তন করে দেখালো। এবার পদ্ম শিবিরের পালা, মানুষের ভরসাকে কোন খাতে তারা ফেলে।
বিজেপি নেতা কেন্দ্রীক দল নয়। বিজেপি সংগঠন কেন্দ্রীক দল। তবে দেশে বিজেপির ক্ষমতায় টিকে থাকার পেছনে যে মোদী ম্যাজিক রয়ে তা অতি বড় সমালোচকও মেনে নিতে বাধ্য। ফলে এই মুখ ছাড়াও পরিবর্তন যে সম্ভব সেই নজির বাঙালি তৈরি করে এক নতুন ট্রেন্ড কিন্তু সেট করল। এবার এই ট্রেন্ড কি রাজ্য স্তর থেকে জাতীয় স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারবে, তা তো সময়ই বলবে। তবে আপাতত বাঙালি দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, দাদাগিরির বিরুদ্ধে অতিষ্ঠ হয়ে বিজেপিকে সুযোগ দিল। ফলে এবার অপেক্ষা মোদীর ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তার মতো বড় বড় ইস্যুকে সামলে কিভাবে নতুন মুখ এনে সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে।

