পুজো কমিটিকে দেওয়া অনুদানের ২৫৮ কোটি টাকায় রাজ্যের কি কি উন্নয়ন সম্ভব হতো, তার হিসেব প্রকাশ করল বিজেপি

আমাদের ভারত, ২৩ আগস্ট: কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর থেকে হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই এবারের দুর্গোৎসব আরো ধুমধাম করে হবে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের ভাঁড়ায় শূন্য বলেও ক্লাবগুলির অনুদানের বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করেছেন তিনি। তার আশা মা দূর্গা এই শূন্য ভাঁড়ার পূর্ণ করবেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘোষণায় তোপ দেগেছেন বিরোধীরা। বিজেপি পাল্টা হিসেব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এই টাকায় কি কি উন্নয়ন সম্ভব হতো রাজ্যে।

বিরোধীরা বলেছেন, যেখানে রাজ্য সরকার বকেয়া ঋণের বোঝা নিয়ে কান্নাকাটি করে, সেখানে খয়রাতি করতে অর্থের অভাব হয় না। বিজেপির তরফে অনুদানের অর্থে রাজ্যের কি কি উন্নতি হতে পারতো তার হিসেবে তুলে ধরেছেন। রাজ্যে ৪৩ হাজার পুজো কমিটিকে ৭ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই হিসাবে আনুমানিক ২৫৮ কোটি টাকা খরচ হবে। এই অর্থ যদি ক্লাবগুলোকে না দিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে ব্যয় করা হত তা হলে কি কি করা সম্ভব হতো তা লিখিত আকারে দাখিল করেছেন রাজ্যের বিজেপি মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য।

তার কথায়, সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য মহার্ঘভাতা দিতে পারছে না সরকার। রাজ্য উন্নয়ন নেই কোনো ক্ষেত্রেই। অথচ দিশাহীন এই সরকার এই পরিস্থিতিতে টাকা বিলিয়ে বেড়াচ্ছে। এই খয়রাতি জনরোষের আকারে বুমেরাং হয়ে ফিরবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এই অর্থ দিয়ে রাজ্যের কি কি উন্নতি সম্ভব হতো সে প্রসঙ্গে শমীক দাবি করেছেন, এই টাকায় প্রায় ৫২ কোটি মিড-ডে-মিল দেওয়া সম্ভব হতো। উচ্চ প্রাথমিকে ৩৪ কোটি ৬৩ লক্ষের বেশি মিড ডে মিলের জন্য খরচ করা যেত। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের বেড পিছু ৫০ হাজার করে ধরলে মোট ৫১,৬০৩টি বেড বাড়ানো সম্ভব হতো এই টাকায়। ৭০ হাজার টাকা দিয়ে একটি করে নলকূপ তৈরি করলে পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই মেটানো সম্ভব হতো রাজ্যে। এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতিতে যদি এই অর্থ ব্যয় করা যেত তাহলে উচ্চমানের ল্যাবরেটরি বানানোর জন্য রাজ্যের ২৫৮ টি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকে এক কোটি টাকা করে দেওয়া সম্ভব হতো। এছাড়া দুই টাকা কেজি দরে ১ কোটি ২৯ লাখ কেজি চাল কিনতে পারতো রাজ্য।

কিন্তু শমিকের এই হিসেবের পাল্টা দিতে গিয়ে তৃণমূলের দাবি, দুর্গাপুজোর সাথে বিরাট পরিমাণ অর্থনীতির যুক্ত। প্রান্তিক অসংগঠিত শ্রমিকদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতেই রাজ্য সরকার বছরে একবার এই উদ্যোগ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *