রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বিজেপি নেতা এবং নেত্রীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতার নিউ আলিপুরে গাড়ি থামিয়ে ১০০ গ্রাম কোকেন-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপি যুব মোর্চার সম্পাদক ও হুগলি জেলার দলীয় পর্যবেক্ষক পামেলা গোস্বামী ও বিজেপি নেতা প্রবীর দে’কে। বাজেয়াপ্ত কোকেনের মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। নিউ আলিপুরের রাস্তায় পুলিশ তাঁদের গাড়ি থামিয়ে তাতে তল্লাশি চালিয়ে পামেলার ব্যাগ ও গাড়ি থেকে ওই ১০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করে। তবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী থাকার পরেও বিজেপি নেতা ও নেত্রীর কাছে কোকেন মজুত থাকা আসলে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
পামেলা মুকুল রায় ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী রায়ের বেশ ঘনিষ্ঠ বলেই সুপরিচিত। জানা গিয়েছে, নিউ আলিপুর থানায় গোপন সূত্র মারফত খবর এসেছিল যে পামেলা প্রতিদিন প্রবীরকে নিয়ে তাদের গাড়িতে বার হন। এরপর সেই গাড়ি নিউ আলিপুরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এসে দাঁড়ায়। সেই সময় সেখানে ৭-৮টি বাইকে করে আসে বেশ কিছু যুবক। পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট ভাবে খবর এসেছিল যে, এই যুবকদেরই কোকেন বিক্রি করেন পামেলা ও প্রবীর।

পুলিশের দাবি, সেই তথ্য মত শুক্রবার বিকেলে ওই নির্দিষ্ট জায়গায় সাদা পোশাকে আগে থেকেই তারা উপস্থিত ছিলেন। পামেলাদের গাড়ি আসতেই তা ঘিরে ফেলে তাদের আটক করা হয়। এরপর সেই গাড়ি আর পামেলার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি চালাতেই ছোট ছোট পাউচে মোট ১০০ গ্রাম কোকেনের সন্ধান মেলে। যদিও এটা তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা বলেই দাবি পামেলা-প্রবীরের। যদি কোকেন পাচারের চেষ্টা করা হত, তাহলে ওইটুকু কোকেন কখনই থাকত না। পুলিশ নিজেই নিয়ে এসে ১০০ গ্রাম কোকেনের প্যাকেট তাদের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে দাবি পামেলার।
রাজারহাটে একটি মলে বিউটি পার্লার চালাতেন পামেলা ও প্রবীর। সেই ব্যবসায়ীক যোগাযোগ থেকেই দু’জনের সম্পর্ক তৈরি হয় বলেই জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, বিজেপির প্রথম সারির কয়েকজন নেতা এই কাণ্ডে জড়িত। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে না পেরে উঠে ইচ্ছাকৃতভাবে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তৃণমূল, এমনটাই দাবি বিজেপির।


