রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিত সরকারের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই:রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন সন্ধ্যাতেই বেলেঘাটায় তরুণ বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হন বলে অভিযোগ। তার দেহ এখনো সতকার হয়নি। কারণ তার দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে মামলা চলছে হাইকোর্টে। সেই মামলায় মঙ্গলবার বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে নিহত বিজেপি কর্মী ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে ও তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে এক সপ্তাহের মধ্যে।

আদালতে অভিজিতের পরিবার জানিয়েছিল তারা দেহ শনাক্ত করতে পারেননি। বিজেপির একাংশের অভিযোগ অন্য দেহকে অভিজিতের দেহ বলে চালানো হয়েছে। ফলে অভিযোগের গুরুত্ব বুঝিয়ে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর বেঞ্চ।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি বলেন, দেহ মর্গে যাতে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে থাকে তার জন্য বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও দেখা গেল তা হয়নি। আদালত দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পর মৃতদেহ দেখে অভিজিৎ সরকারের পরিবার শনাক্ত করতে পারেনি। মৃতদেহতে পচন ধরেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন এই সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। তাই দেহটি অভিজিতের কিনা নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্টের দাবি জানানো হয়েছিল। আদালত তা মেনে নিয়েছে।”

আগামী সাত দিনের মধ্যে মুখ বন্ধ করা খামে এই রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর জন্য অভিজিতের দাদার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার কমান্ডো হসপিটাল সেই নমুনা সংগ্রহ করবে তারপর সেই নমুনা পাঠানো হবে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরটরির কাছে। সেখানেই নমুনা পরীক্ষা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে মুখ বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতের কাছে। এই পরীক্ষাটি অগ্রাধিকারের সঙ্গে করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। অভিজিতের দেহ শনাক্ত করার জন্যই এই পরীক্ষা জরুরি বলে জানিয়েছেন আদালত।

গত ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বেলেঘাটায় হিংসায় মৃত্যু হয়েছিল বিজেপি কর্মী অভিজিতের। তার পরিবারের অভিযোগ ছিল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।‌ গত ২ জুলাই হাইকোর্ট অভিজিতের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতে অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার জানান তার ভাইয়ের মৃতদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না ওই মৃতদেহটি অভিজিতের। তারপরে এই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

গত ২ জুলাই অভিজিতের দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ভোট-পরবর্তী হিংসায় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকারকে। যাদের কাছ থেকে রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের রেশনের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে আজকে আদালতে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এই মামলায় যেসব আইনজীবীর যুক্ত তাদের সবার কাছে আলাদা আলাদা করে এই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *