স্বরূপ দত্ত আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি : রাশিয়ান প্রজাতির পাখি তুন্দ্রা বিন গুসের দেখা মিললো রায়গঞ্জের পানিশালা এলাকার একটি জলাশায়ে। যার ফলে কুলিকের পাশাপাশি রায়গঞ্জের আরও একটি জায়গায় অদূর ভবিষতে পাখিরালয়ের সম্ভবনা দেখছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা। আর এই বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আসার খবর চাউর হতেই ছবি ফ্রেমবন্দী করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।
রায়গঞ্জের পানিশালা এলাকায় দীপরাজার দীঘি নামক একটি জলাশয়ে দেখা মিললো বিরল প্রজাতির একটি বিদেশি রাজ হাঁসের। আর এই বিরল প্রজাতির রাজ হাঁসটির নাম তুন্দ্রা বিন গুস (Tundra Bean Goose)। বহুবছর ধরে ঐ জলাশয়ে বিপুল পরিমানে সাইবেরিয়ান প্রজাতির রাজহাঁস গ্রেল্যাগ গুসের (Graylag Goose) আনাগোনা দেখা গেলোও এবছর হঠাৎ তুন্দ্রা বিন রাজ হাঁসের দেখা মেলায় উচ্ছ্বসিত পাখি বিশেষজ্ঞ মহল। পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে গ্রেল্যাগ প্রজাতির রাজহাঁসরা প্রায় সময়ে ভারতে এলেও তুন্দ্রা বিন নামক রাজহাঁসটির দেখা ভারতে হাতেগুনে কয়েকবার মিলেছে। এমনকি এই রাজহাঁসটির দেখা পশ্চিমবঙ্গে এর আগে একবার মিলেছিলো।

এদিন জলাশয় জুড়ে দেখা গেলো গ্রেল্যাগ রাজহাঁস ভর্তি তাঁর মাঝে একটি মাত্র তুন্দ্র বিন রাজহাঁস। তবে এতোগুলো হাঁসের মাঝে এই তুন্দ্রা বিন হাঁসটির চেনার উপায় কী? এই হাঁসটির বৈশিষ্ট্য হলো, হাঁসটির ঠোঁট কালো এবং ঠোঁটের মাঝে রয়েছে একটি ছোট হলুদ দাগ এবং শরীরটি কালচে যা বাকি হাঁসদের থেকে আলাদা। এদের খাবার জলাশয়ের উদ্ভিদ যা খেয়েই এরা জীবনধারন করে বলে জানান পাখি বিশেষজ্ঞরা।
বিরল প্রজাতির এই পাখির খবর চাউর হতে কলকাতা, শিলিগুড়ি, মালদা, বালুঘাট থেকে ছুটে এসেছেন পাখি প্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা। বন দপ্তরের আধিকারীক, কর্মী থেকে পাখি প্রেমী ও বিশেষজ্ঞরা সকাল থেকে ক্যামেরা বন্দী করতে ব্যস্ত এই বিরল প্রজাতির পাখিটিকে।

অন্যদিকে গ্রামের জলাশয়ে বিরল প্রজাতির দেখা মেলায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বিপুল পরিমান হাঁসের আনাগোনা তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, তবে এই বছর বিরল প্রজাতির যে পাখি এসেছে তা তাঁরা বনদপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে জেনেছেন। তাঁরা চাইছেন ঐ জলাশয়টিতে বনদপ্তরের তরফ সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং পাখিদের দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হোক।

