অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৫ জুন: ফেসবুকে অক্ষর, শুদ্ধ বানান ও ভাষাচর্চা গ্রুপে ‘বানানের টিপস্‘-এ স্বপন ভট্টাচার্য লিখেছেন, আমরা জানি যে ‘নিঃ’ একটা উপসর্গ। এই উপসর্গের শেষে একটা বিসর্গ আছে। আর তাই এর পরের শব্দটার গোড়ায় যে স্বর বা ব্যঞ্জনবর্ণ থাকে তার সঙ্গে মিলে একটা বিসর্গ সন্ধি তৈরি করে। এর ফলে ওই বিসর্গ কখনও র, রেফ্, আবার কখনও শ, ষ, বা স বর্ণে বদলে যায়। যেমন: নিঃ+অবয়ব = নিরবয়ব, নিঃ+অন্তর = নিরন্তর, নিঃ+আকার = নিরাকার, নিঃ+আশা = নিরাশা, নিঃ+উৎসাহ = নিরুৎসাহ, নিঃ+দোষ = নির্দোষ, নিঃ+ধন = নির্ধন, নিঃ+বোধ = নির্বোধ, নিঃ+নিমেষ = নির্নিমেষ, নিঃ+জন = নির্জন, নিঃ+বাক = নির্বাক, নিঃ+বান্ধব = নির্বান্ধব, নিঃ+তরঙ্গ = নিস্তরঙ্গ ইত্যাদি। আবার কখনও কখনও দেখা যাবে যে বিসর্গ যেমন ছিল তেমনি আছে। যেমন: নিঃ+সন্দেহ = নিঃসন্দেহ, নিঃ+সঙ্গ = নিঃসঙ্গ ইত্যাদি। তবে বিসর্গ বদলে যাই হোক না কেন দেখা যাবে যে সন্ধির ফলে যে শব্দটা তৈরি হল তার গোড়ায় ‘নি’ থেকেই যাচ্ছে।
কিন্তু এই ‘নিঃ’ উপসর্গের পরের শব্দের গোড়ায় যদি ‘র’ থাকে তাহলে কী হবে? তাহলে একটা মজার ব্যাপার ঘটে। ‘নিঃ’ উপসর্গের বিসর্গ তো লোপ পায়ই, ‘নি’-এর ই-কার বদলে ঈ-কার হয়ে যায়। যেমন: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ, নিঃ+রন্ধ্র = নীরন্ধ্র, নিঃ+রক্ত = নীরক্ত ইত্যাদি। তাই আমরা খেয়াল রাখব যে ‘নিঃ’ উপসর্গের পর ‘র’ এলে আমরা লিখব ন-এ ‘ঈ-কার”।
***

