আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২৪ নভেম্বর: পুর ভোটের আগেই মানুষের দরবারে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন বনগাঁর প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক শংকর আঢ্য। বললেন, দলের নির্দেশে আমাকে দিয়ে ২০১৫ সালে পুরভোট করানো হয়েছিল। মঙ্গলবার একটি মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন শংকর আঢ্য। তাঁর এই স্বীকারোক্তিতে অস্বস্তিতে দল।
সামনেই পুর নির্বাচন, আর তাঁর আগে নিজের ভুল স্বীকার করে দলকে অস্বস্তিতে ফেললেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য। ইতি মধ্যেই দলের মধ্যে তিনি কোনঠাসা। কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে এখনও জ্বলজ্বল করছে ২০১৫ সালে কি ভাবে ভোট করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সে দিন বনগাঁ হাইস্কুলে তখন ঘড়ির কাঁটায় দেড়টা। শংকর আঢ্যের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী বুথে ঢুকে বুথ দখল করে। সকলের হাতেই ছিল লোহার রড, আর বাঁশ। এরপর যারা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের হাতে ভোটের কালি লাগিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়। সেই আতঙ্ক এখনও মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাই ২০২১- এর পুরভোটের আগে তিনি সাফাই দিয়ে বলেন, যে তিনি যা ভুল বা অন্যায় করেছিলেন তা দলের নির্দেশেই করেছিলেন। যে ভাবে ভোট করিয়েছেন তা দলের নির্দেশেই ২০১৫ সালে আমি পুরভোট
করেছিলাম। এর জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।
তাঁর এই বক্তব্যে, রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য এই ভাবে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে কার্যত ভোটের আগে দলকে চাপের মুখে ফেললেন তিনি। সেটা বুঝতে পেরেছে জেলা নেত্রী, তাই তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি আলোরানী সরকার। তিনি বলেন, তিনি এই ভাবে অন্যের নামে দোষ চাপাতে পারেন না। যদিও তিনি বলেন আমি মাত্র তিন মাস হয়েছে এই জেলার দায়িত্ব পেয়েছি। আমি থাকা কালীন কোনও ভোটে রিগিং করতে দেব না।
এ বিষয়ে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক দেবদাস মণ্ডল বলেন, তিনি যতই ক্ষমা চান না কেন বনগাঁর মানুষ তাকে কোনও দিন ক্ষমা করবে না। বনগাঁর মানুষের সুখ শান্তি উনি কেড়ে নিয়েছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন রজ্যের প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৫ সালে পৌরভোটে রিগিং করেছেন, এটা আমার কথা নয়। এই দিনের আতঙ্ক মানুষের মধ্যে আজও রয়েছে। আগামী নির্বাচনে বনগাঁর মানুষ তাঁর প্রতিবাদ করবে ভোট বাক্সে।

