সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২০ এপ্রিল: গরম পড়তেই জল সংকট দেখা দিয়েছে বাঁকুড়া পুর শহরে। শহরের অপেক্ষাকৃত উচুঁ এলাকাতেই সমস্যা শুরু হয়েছে। ক্রমে তা শহরজুড়ে হবে, এমনই আশঙ্কা করছেন পুরবাসীরা। গত দু -তিন মাস বৃষ্টি হয়নি৷ জলস্তর নীচে নেমে গেছে এখনই। বৃষ্টি না হলে অবস্হা ঘোরালো হবে। ফি বছরই গরমে জলসঙ্কট দেখা দেয় বাঁকুড়ায়। জলের ট্যাঙ্ক এলাকায় এলাকায় পাঠিয়ে মোকাবিলা করে পুরসভা।
প্রাচীন এই পুর শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ১লক্ষ ৩৮ হাজারের মত। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ শিক্ষা ও রুজিরোজগারের জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই শহরে বসবাস করছেন। বাঁকুড়া জেলা শহর এবং জেলা আদালত, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা শাসকের কার্যালয় থাকায় দিনের বেলায় আরোও ৫০ হাজার মানুষ এই শহরে বসবাস থাকেন। এদের সকলের পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হয় পৌরসভাকে।
বাঁকুড়া পৌরসভার বর্তমান উপপৌর প্রধান হীরালাল চট্টরাজ জানান, প্রতিদিন জল-সরবরাহ হয় ৯ মিলিয়ান লিটার। অন্যদিকে এই শহরে জলের চাহিদা ১৮ মিলিয়ন লিটার। পৌর এলাকায় ১৪৯৯৭ বাড়িতে জল সরবরাহের লাইন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দামোদর নদ থেকে জল এনে শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে শহরের ১৩৫০০ বাড়িতে জল সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। শীঘ্রই আরও ১২ হাজার সংযোগ দেওয়া হবে।
হীরালাল বাবু জানান, জল নিয়ে বর্তমানে কোন সমস্যা নেই। দামোদর প্রকল্পের জল সরবরাহ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কোনো কারণে এই প্রকল্পে সমস্যা তৈরি হলে যাতে পুরএলাকায় জল সরবরাহ বিঘ্নিত না হয় তার সতর্কীকরণ হিসেবে ইতিমধ্যেই কংসাবতী জলাধার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে জলের জন্য। গত তিন-চারমাস বৃষ্টি নেই। তাই দামোদরের জল পাওয়াতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্খা থাকছেই। এদিকে গত গত ২০২১এ পুর এলাকার জল সঙ্কট ও রাস্তার জল সরবরাহের কলগুলি নিয়ে সমীক্ষা ও প্রচারের কাজ করে পরিবেশবাদী সংস্থা মাই ডিয়ার ট্রিজ এন্ড ওয়াইল্ডস।
এই সংস্থার সম্পাদক ঝর্ণা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, পুরসভা জল সরবরাহে যতই আন্তরিক হোক না কেন শহরবাসীরা এবিষয়ে আন্তরিক না হওয়া পর্যন্ত সঙ্কট মিটবে না। তাদের সমীক্ষা অনুসারে শহরের রাস্তার ধারে জল সরবরাহের যে প্রায় তিন হাজার কল রয়েছে। এই কলগুলির প্রায় ৬০ শতাংশেই বন্ধ করার মুখ লাগানো নেই। পুরসভা বার বার ব্যবস্থা নিলেও সেগুলি ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। কলে বন্ধের মুখ লাগানো থাকলে তুলনা মূলক কম জল পড়ে। কম সময়ে বেশি জলের জন্য কলগুলি ভেঙ্গে ফেলা হয়। ঝর্ণা দেবী জানান, পরীক্ষামূলক ভাবে তারা ৫০টি কলের মুখ লাগিয়ে ছিলেন। একসপ্তাহ সেগুলি স্থায়ী হয়। তাদের সমীক্ষা অনুসারে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন বেশ কিছু কল রয়েছে যেখানে পুরসভার অজান্তেই পলিপাইপ দিয়ে জল নেওয়া হচ্ছে।
পৌর প্রধান অলকা সেন মজুমদার জানান, পৌরসভার যেসব কলের মুখ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙ্গা পড়ে রয়েছে সেগুলির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহুবার কলের মুখগুলো লাগানো হয়েছে এবং পরেও হবে। কিন্তু কিছু মানুষ এই কলের মুখ হয় ভেঙে দিচ্ছে নয় খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। মানুষকে একটু সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে কংসাবতীর জল এনে শহরে সরবরাহ প্রস্তাব যে বাস্তবে সম্ভব নয় তা জানা গেছে জলাধার কর্তৃপক্ষের কথায়।
কংসাবতী জলাধার প্রকল্পের এসডিও গৌরব ভৌমিক জানান, কংসাবতী জলাধার এ জল ধারণ ক্ষমতা ৪৪০ফিট বা পরিমানে ৬লক্ষ ৮৭ হাজার একর ফিট।বর্তমানে জল আছে জলাধারে ৪২৩ ফিট। চাষীরা নির্ধারিত পরিমানের বেশি জল ছাড়ার জন্য আন্দোলন করছে। এদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা বাসিন্দাদের বক্তব্য জল সরবরাহের সময় ও পরিমান নির্দিষ্ট নেই।
হাজরাপাড়া ও শিখরিয়াপাড়ার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকা কখনও ১০টায় আবার কখনও ১২টায় কখনও ১ঘন্টা আবার কখনও ৪৫ মিনিট জল দেওয়া হচ্ছে।

