পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা, ক্ষোভ বিভিন্ন মহলে

আমাদের ভারত, ২৩ অক্টোবর: মালদার কিছু অঞ্চলে নমাজ পড়ার সময় মাইকে পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। আমলিতলা জামে মসজিদের সম্পাদক মহম্মদ আশারুল হক স্থানীয় কালিয়াচকের দুটি ব্লকের বাসিন্দাদের তরফে বিভিন্ন পুজোর উদ্যোক্তাকে লিখেছেন, দিনে পাঁচবার তাঁদের নমাজ পাঠ হয়। ভোর সাড়ে চারটে থেকে সাড়ে পাঁচটা, বেলা একটা থেকে দুটাে, সাড়ে তিনটে থেকে চারটে, সওয়া পাঁচটা থেকে পৌনে ছ’টা ও সন্ধ্যা সওয়া সাতটা থেকে সওয়া আটটা এই পাঁচবার যেন মাইকে পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে বিরত থাকেন। ইমাম মোথাবাড়ি থানার ওসি-কেও লিখেছেন, “মাইক বাজালে সমস্যা হবে।“

সোমবার এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে পাওয়া এই চিঠি দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ হন রাষ্ট্রীয় সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রচারক সহকার ভারতীর ক্ষেত্রীয় সংগঠন মন্ত্রী বিবেকানন্দ পাত্র। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা যথাস্থানে জানাব। আমরা তো এতকাল সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানে আছি। বছরে ৩৬৫ দিন মাইকে আজান শুনেছি। পঞ্জিকার তিথি মেনে আমাদের পুজো হয়। ওঁরা ক‘দিন পুজোর মন্ত্রোচ্চারণ শুনতে পারবেন না?”

বিবেকানন্দবাবুর মতে, “ঈশ্বর ওঁদের নিরাকার। আমাদের পুজোকে মেনে নিতে অসুবিধে কোথায়? আসলে হিন্দুদের ধৈর্য্যকে আঘাত করার চেষ্টা করছে মুসলিমদের একাংশ। উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের একাংশ একে মদত দিচ্ছে। আমরা বিষয়টা এড়িয়ে যেতে পারি না। আমাদের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। তাদের যাকে যা জানানোর জানাচ্ছি।”

জাতির কথার সভাপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য জানান, “পুজোয় মন্ত্রোচ্চারণের সময়ের ওপর হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। পশ্চিমবাংলার বুকেও ফতোয়া এসে গিয়েছে। এপার বাংলায় আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা সত্বেও শুরু হল মালদা, মানে গৌরবঙ্গ থেকে। ক্রমে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া হয়ে দক্ষিণবঙ্গে ঢুকে যাবে। তার পরে উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে। কোথা থেকে এই সাহস ওরা পাচ্ছে? এখানে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তার পরেও এরকম প্রবণতা! ঠিক যেভাবে লেবাননের সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টানরা অনেক কিছু মেনে নিচ্ছে, আমাদেরও যেন সেভাবে সব মেনে নিতে হবে।”

ওই কার্যকর্তার কথায়, “ওদের এত বাড়বাড়ন্ত হয়েছে বা হচ্ছে কমিউনিস্টদের জন্য।” সিপিএম-এর এক নামী নেতার নামোল্লেখ ও তাঁর সম্পর্কে তীব্র কটূক্তি করে ওই কার্যকর্তা বলেন, “ওঁরা প্রকাশ্যে দাবি করেন, মন্দিরের সামনে গোমাংস খাবেন বলে। ক্ষমতা থাকে মুসলিমদের সম্পর্কে সামান্য অসৌজন্যতা দেখান! কত ক্ষমতা দেখব! সাহসটা মুসলিমরা এই কমিউনিস্ট, মানে পঞ্চম বাহিনীর কাছ থেকেই পাচ্ছে।”

1 thoughts on “পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা, ক্ষোভ বিভিন্ন মহলে

Leave a Reply to সনাতন মণ্ডল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *