জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৪ জুন: ফের ছেলেধরার আতঙ্ক! ঘুম পাড়ানি ইঞ্জেকশন দিয়ে আদিবাসী শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, কাঁকসার জঙ্গলমহল এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কাঁকসা থানার পুলিশ।
ঘটনায় জানাগেছে, গত বুধবার দুপুরে কাঁকসার তেলিপাড়া এলাকার আদিবাসী শিশু তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করছিল। ওই সময় রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে এক দিদিমণি সহ কয়েকজন ইঞ্জেকশন দেয় বলে অভিযোগ। এরপরই বাচ্চাটি সেখান থেকে কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছায়। পরিবারের অভিযোগ তারপরই বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।শুক্রবার পরিবারের লোকজন কাঁকসা থানায় অভিযোগ জানান।

শিশুটির বাবা শুকুল মুর্মু জানান, “দিনমজুরের কাজ করি। তাই বাচ্চাকে বাড়িতে রেখে যেতে হয়। বুধবার বিকেলে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলে অসুস্থ। শুধু ঘুমোচ্ছে। শরীরে খুব জ্বর। জিজ্ঞাসা করতেই বলল, রাস্তায় এক দিদিমণি ইঞ্জেকশন দিয়েছে। তারপর গ্রামে আশা কর্মীদের বাড়িতে যায়। কিন্তু ওই আশা দিদিমণি স্পষ্ট জানান ওইদিন বাচ্চাদের কোনো রকম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, জ্বর না ছাড়ায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে থানায় অভিযোগ করতে বলেন। সেই মতো পুলিশে জানিয়েছি।” গোটা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা উদয় মল্লিক জানান,”আমরা আতঙ্কিত। অনুমান কোনো শিশুপাচার চক্র জড়িত। পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি তদন্ত করুক।” প্রশ্ন, যদি ইঞ্জেকশন দেওয়ার ছিল, তাহলে বাকি বাচ্চাদের দেওয়া হল না কেন? কি উদ্দেশ্যে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল? তাহলে কি অপহরণের কোনো ছক ছিল? এলাকার আশা কর্মী বর্ণালী রায় জানান,
“ওইদিন কোনো ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে শিশুটিকে নজরে রাখা হয়েছে।”
কাঁকসার বিএমওএইচ বিপ্লব মন্ডল জানান, “স্বাস্থ্য দফতর থেকে কোনো রকম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়নি। শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
শুক্রবার কাঁকসা থানার পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এলাকা জুড়ে অজানা আতঙ্ক গ্রাস করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”
কাঁকসা বিডিও পর্না দে জানান, “গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

