শব্দবাজি এবং ডি.জে.-র তাণ্ডব রুখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আবেদন

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৭ এপ্রিল: বিভিন্ন অনুষ্ঠানবাড়িতে শব্দবাজি এবং ডি.জে.-র তাণ্ডব রুখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আবেদন করল চন্দননগরের আইন সহায়তা কেন্দ্র।

বুধবার সংগঠনের সম্পাদক তথা পরিবেশ ও সমাজকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, “কেবল কালীপুজো কিংবা কোনও পুজো বা শোভাযাত্রায় নয় অনেক সময়ে বিয়ে অথবা জন্মদিন কিংবা এই ধরণের কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও অনুষ্ঠান বাড়িগুলিতে শব্দ কিংবা আতসবাজি এবং ডি.জে.-র তাণ্ডব দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই ধরনের বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে।

আশপাশের বাড়ির অসুস্থ এবং বৃদ্ধমানুষদের এর ফলে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে। মানুষজন খুবই অসহায় বোধ করেন, কেননা তাঁরা জানেন না এই ধরনের অনুষ্ঠানবাড়িগুলিতে সংঘটিত এই জাতীয় শব্দবাজি কিংবা ডি.জে.-র আধিক্য রোখার জন্য কোনও আইন আছে কি না !

আমাদের জেনে রাখা দরকার ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আইনসম্মত ভাবে এই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তুত করেছেনl সেই রূপরেখা বা নির্দেশনামা মোতাবেক কাজ করতে এবং অনুষ্ঠানবাড়িতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সকল আইন মানতে আয়োজকরা এবং অনুষ্ঠানবাড়ির কর্তৃপক্ষ বাধ্যl নির্দিষ্ট ডেসিবেলের উপরে কোনওরকম শব্দ করা অথবা রাত দশটার পর এই ধরনের কোনও অনুষ্ঠান করা সম্পূর্ণভাবে আইনত নিষিদ্ধl অন্যথায় পুরসভা কিংবা পুরনিগম বা পঞ্চায়েত আইন অমান্যকারী অনুষ্ঠানবাড়ির ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দিতে পারেনl প্রয়োজনবোধে তাঁদের থেকে ফাইন বা দূষণ মূল্য আদায় করার ক্ষমতাও রয়েছে স্থানীয় সরকারের হাতেl

বিগত সময়ে এই ধরনের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভা বা পঞ্চায়েত আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে এবং অভিযুক্ত অনুষ্ঠানবাড়িটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
আইনের এই ধারাগুলি সম্পর্কে সর্বস্তরের জনসাধারণ এবং স্থানীয় সরকারগুলির ওয়াকিবহাল থাকা এবং দায়িত্ব সহকারে সেগুলি পালন করা জরুরি। এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে প্রত্যেকের উচিত স্থানীয় পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনকে জানানো। প্রয়োজনবোধে আপনারা যদি আইন সহায়তা কেন্দ্র সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে আমরা আপনাদের সকল রকমের আইনগত সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *