স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ অক্টোবর: রাতারাতি গাড়ি থেকে খুলে গেল নীলবাতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে মালিক বিহীন এসইউভি গাড়ি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কে বা কারা ওই গাড়ি রেখে দিয়েছে? তাতে কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না তা নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ এসে ধাতব লক দিয়ে গাড়িটি আটকে রেখে যায়। যদিও ওইদিন বিকেলেই গাড়ির মালিকের হদিশ মেলে।
রায়গঞ্জের পূর্ব কলেজপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকা অমল কান্তি রায় নামে গাড়ির মালিক ওই ব্যাক্তি দাবি করেন, তিনি নবান্নের প্রাক্তন জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন এবং বর্তমানে কলকাতা কর্পোরেশনের হেয়ারিং অফিসার পদে রয়েছেন। সেইসঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিলিট স্কলার তিনি। যদিও গাড়িতে কোনও সরকারি আধিকারিকের বোর্ড লাগানো ছিল না। ছিল শুধু নীলবাতি।
এদিকে এই খবর সম্প্রচারের পরেই বৃহস্পতিবার রাতারাতি ফের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ওই গাড়ি থেকে নীলবাতি খুলে দেওয়া হয়। কে খুলল সেই নীলবাতি? যদি তিনি সরকারি আধিকারিকই হন, আর নীলবাতি পেয়েই থাকেন, তাহলে কেনই বা গাড়ি থেকে তা খুলে ফেলা হল? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনধিকার প্রবেশের মত গাড়ি রেখে যাওয়া তারপর আবার রাতারাতি গাড়ি থেকে নীলবাতি খুলে ফেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তার নীলবাতি পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। যদিও এই নীলবাতি খুলে ফেলা প্রসঙ্গে গাড়ির মালিক অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন, তার গাড়িতে নীলবাতি বৈধ নয়। বরং তিনি সাধারণ ভাবেই গাড়িতে নীলবাতি ব্যবহার করেন। আর এতেই রহস্য আরও জোড়ালো হয়েছে। যদিও এক্ষুনি ওই গাড়ি ছাড়া হবে না ও আগামী সোমবার এনিয়ে তদন্তে বসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

