নীল বণিক, আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৬ মার্চ:
দলের গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে রাজ্য বিজেপিকে কড়া দাওয়াই অমিত শাহের। সোমবার নিউটাউনে এক অভিজাত হোটেলে রাজ্য বিজেপি নেতাদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও ছিলেন। পার্থীপদ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের কারণেই এই বৈঠক হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোলের জেরে গতকাল অমিত শাহ তাঁর সফর সূচি কাটছাঁট করে কলকাতায় চলে আসেন, এমনকি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও রাজ্যে আসেন। বৈঠকে অবিলম্বে প্রার্থী নিয়ে দলের গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে রাজ্য নেতাদের আরও বেশি করে সক্রিয় হতে বলেছেন। উত্তরপাড়া থেকে রায়দিঘি, উত্তরবঙ্গের কালচিনি, হাওড়া, সিঙ্গুর সব জায়গাতেই প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। এমনকি কলকাতায় হেস্টিংসে বিজেপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্য বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সাথে কথা বলতে দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন অমিত শাহ। ভোররাত পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘন্টা ধরে বৈঠকে গোষ্ঠী কোন্দল সামলানোর জন্য রাজ্য নেতাদের একের পর এক নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দলের গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ ফলাও করে প্রচার করছে। তার থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রাজ্য বিজেপিকে কী করতে হবে তার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রচারের রণকৌশল থেকে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কীঅভিযোগ করা যায় তা নিয়েও রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সোমবারের রাতে এই বৈঠকে ছিলেন সর্বভারতীয় সংগঠন সম্পাদক বিএল সন্তোষ, ভূপেন্দর যাদব। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, অমিতাভ চক্রবর্তী, কৈলাস বিজয়বর্গীয় সহ রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী কমিটির প্রত্যেক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রে খবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে প্রার্থী বদল করা নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে হুগলির বেশ কয়েকটি আসনের প্রার্থী বদল নিয়ে। যদিও কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশের অভিমত এভাবে প্রার্থী বদল করলে আরও বেশি ক্ষতি হবে দলের। তবে একমাত্র রায়দিঘির প্রার্থী বদল বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চিন্তাভাবনায় রেখেছেন বলে জানাগেছে।

