আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৪ জুলাই: কেন্দ্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির দায় এড়াতে পারে না। বুধবার বামফ্রন্টের বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়। জনজীবনের যন্ত্রণা লাঘব করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ইতিবাচক হস্তক্ষেপ দাবি করল বামফ্রন্ট।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অতিমারী এবং অর্থনৈতিক মন্দায় জনজীবন যখন সামগ্রিকভাবে বিপর্যস্ত তখন পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন তেল, রান্নার গ্যাসের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনের দুর্দশা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি করে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় প্রতিদিন দাম বাড়ানো হচ্ছে জ্বালানী তেলের, কলকাতা সহ দেশের সব বড় শহরে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি একশো টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাফাই গেয়ে এই অপরাধকে আড়াল করা যাবে না।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার, তখন কলকাতায় পেট্রলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৭৯.৮৬ টাকা। এখন তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৪.৫৩ ডলার। অথচ ডিজেল ও পেট্রলের দাম একশো টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
প্রকৃত ঘটনা হলো এই যে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার জ্বালানী তেলের ওপরে কর বসিয়ে রাজস্ব আদায় করছে ব্যাপক হারে। সেই কারণে পেট্রল ডিজেল রান্নার গ্যাসের চড়া মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। মোদী সরকার পেট্রলের ওপরে উৎপাদন শুল্ক ২৫৮ শতাংশ এবং ডিজেলের ওপরে ৮২০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এর প্রভাবে গণপরিবহনের খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামও আকাশ ছোঁয়া হয়েছে।
এ রাজ্যের সরকারও এই মূল্যবৃদ্ধির দায় এড়াতে পারে না। তারাও পেট্রপণ্য থেকে চড়া রাজস্ব আদায় করে থাকে। অতীতে বামফ্রন্ট সরকার পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে হস্তক্ষেপ করতে আদায়কৃত করের পরিমান উল্লেখজনকভাবে কমিয়ে দৃষ্টাস্ত স্থাপন করেছিল।
বর্তমান তৃণমূল সরকার সেই লক্ষ্যে কোনো উদ্যোগ নিয়ে জনগণের সমস্যার সুরাহার চেষ্টা করছে না, বরং পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির সুযোগে রাজ্যের কোষাগার ভরানোর কাজ করছে এবং সরকারের ঢাক পেটানোর জন্য বিজ্ঞাপনের ব্যয় বিপুল হারে বাড়িয়ে চলেছে। পেট্রপণ্যের চড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং তার ফলে গণপরিবহনের খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে বামফ্রন্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং জনজীবনের যন্ত্রণা লাঘব করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ইতিবাচক হস্তক্ষেপ দাবি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্যের কোথাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলেই পুলিশ প্রশাসন হিংস্রভাবে বাধা দিচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। কলকাতায়ও বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে লালবাজারে লকআপে পাঠিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। অথচ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাইক লাগিয়ে মঞ্চ বেঁধে জমায়েত করে এই ইস্যুতে কোভিড বিধি না মেনেই তাদের কর্মসূচি করে চলেছে, পুলিশ প্রশাসন তাদের ক্ষেত্রে সবরকমের সহযোগিতাই করছে।
একই সময়ে, একই বিষয়ে, একই ধরনের কর্মসূচিতে বিরোধীদের প্রতি পুলিশ প্রশাসনের দমনমূলক আচরণ প্রশাসনের নির্লজ্জ দলীয় পক্ষপাতিত্বকে প্রকাশ করছে। আমরা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে তৃণমূল সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করছি।“

