রাজ্যে ‘শাসক দলের অনাচার’ নিয়ে সরব সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট

আমাদের ভারত, ৪ নভেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের অনাচার নিয়ে সরব হল সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট। সংগঠনের সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল এই প্রতিবেদককে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে রত্নসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস আজ আর এক রত্নের আবির্ভাব ঘটালো। হ্যাঁ, রত্নই তো! একটা বাচ্চা মেয়েকে নাহলে বলতে পারে যে চাকরি হয়ে যাবে, তার জন্য আমাকে খুশি করে দাও।

প্রসঙ্গত, দলের মুখ পোড়ানোর মত কোনও কাজ করলে যে তাঁকে রেয়াত করা হবে না, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই মত তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য শিশির মণ্ডলকে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে দল যে কড়া ব্যবস্থা নেবে তা-ও তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবারই দলের এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে জানান।

শঙ্কর মণ্ডল শুক্রবার জানান, “ইনি নাকি একজন শিক্ষক, দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান, আসলে এই রাজ্যের শিক্ষক সমাজটাকেই কালিমালিপ্ত করে ফেলেছে রাজ্যের শাসক তৃণমূল। এখন যেহেতু প্রকাশ্যে এসে গেছে, এই শিক্ষকের ভিডিও ও অডিও, তাই এখন ওকে সাসপেণ্ড করে দায় সারছে, বলছে তদন্ত হবে। সে নয় হল। কিন্তু ওই মহান মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হল না কেন? আসলে করবে কি করে?এই দলটার এখন এমন অবস্থা, ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে।”

শঙ্করবাবু সরব হয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য ও কেষ্ট কন্যার ব্যাপারেও। জানিয়েছেন, “খানিকটা সময় নিয়োগ দুর্নীতি ও রত্নশ্রেষ্ঠ কেষ্ট কন্যার জেরা নিয়ে কথা বলতেই হয়। সেটা হল মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল মানিক ভট্টাচার্যের অফিসে টাকা পাঠাতো তা একপ্রকার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। আর অন্যদিকে কেষ্ট কন্যা সুকন্যা মণ্ডল তাঁর মালিকাধীন টাকা ও সম্পত্তির উৎস কোথা থেকে তা নিদিষ্ট করে বলতে পারেননি। তার মানে এই টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন হয়েছে সেটাই প্রমাণ করে।

তাই বর্তমানে রাজ্য সরকার এখন জনগণের কাছে চোরেদের সরকার বলেই খ্যাতি অর্জন করেছে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গি এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে,অথচ এর প্রতিকারের পরিবর্তে একে অস্বীকার করে অজানা জ্বর বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। কোনও প্রতিবাদ আন্দোলনকে পুলিশ দিয়ে বানচাল করতে ও সিতাইয়ের মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের ওপর হামলা করে নিজেদের দৈন্যতাই প্রমাণ করে চলেছে।

সেই কারণেই জনমত সম্পূর্ন বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। এটা বুঝেই তৃণমূল বিরোধী ভোটের বিভাজন চাইছে, তাই বিভিন্নভাবে অপ্রাসঙ্গিক সিপিএম ও কংগ্রেসকে তুলে আনতে চাইছে। বাকি ডোল দিয়ে ভোট লুঠের পরিকল্পনা করে ও সর্বোপরি জেহাদীদের মদত দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটকে এককাট্টা করে সামাল দিতে বদ্ধ পরিকর। সেই সঙ্গে সিপিএমের পুরনো নীতি, মানে কিছু কংগ্রেস নেতাদের জয় সুনিশ্চিত করে ও বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়ে যেভাবে জ্যোতি বসু নিজের সিংহাসন অটুট রেখেছিলেন, ঠিক সেই রকমই বর্তমান বিরোধী কিছু নেতাকে দিয়ে ওই একই ব্যবস্থা করছে মমতা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *